বাগেরহাট প্রতিনিধি: বোরো মৌসুমে সময়মতো সেচের পানি না পাওয়ায় বাগেরহাটের রামপাল ও সদর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার ধানক্ষেত মারাত্মক ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
পানির অভাবে জমির মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, অনেক স্থানে ধানের গাছ রোদে পুড়ে লালচে রঙ ধারণ করেছে। ফলে উৎপাদন নিয়ে চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন হাজারো কৃষক।


স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি বিভাগের পরামর্শে বিপুল অর্থ ব্যয়ে তারা বোরো ধানের চারা রোপণ করেছেন। কিন্তু খালগুলোতে পর্যাপ্ত পানি না থাকায় সেচ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। এতে জমিতে শীষ গঠন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

কৃষকদের একটি অংশের দাবি, রামপালের ফয়লা সুইচগেট বন্ধ রেখে দেবীপুর এলাকায় একটি সেতুর নির্মাণকাজ চলায় খালগুলোতে পানিপ্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। এর প্রভাব পড়েছে রামপাল ও সদর উপজেলার বিভিন্ন সেচনির্ভর এলাকায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, কয়েকটি গ্রামের মাঠে পানির অভাবে জমির মাটি শক্ত হয়ে ফেটে গেছে। কোথাও কোথাও ধানের চারা শুকিয়ে যাচ্ছে। অনেক জমিতে সেচের বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও নেই।
সুগন্ধি গ্রামের কৃষক মামুন শেখ গত বছর ধান বিক্রি করে ভালো আয় করেছিলেন। কিন্তু এবার পাঁচ বিঘা জমির ধান পানির সংকটে নষ্ট হওয়ার উপক্রম। তিনি বলেন, খালে পানি নেই, সেচ দিতে পারছি না। এমনকি ঘেরে থাকা মাছ নিয়েও শঙ্কায় আছি।
ক্ষুদ্রচাকশ্রী এলাকার কালাম শেখ বলেন, বড় আশা নিয়ে আবাদ করলেও পানি না থাকায় তিনি ও তার বর্গাচাষি বিপাকে পড়েছেন। দ্রুত সুইচগেট খুলে দিয়ে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করার দাবি জানান তিনি।
কৃষক মো. কাউছার বলেন, অনেকেই ব্যাংক ও এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে কিংবা স্বর্ণ বন্ধক রেখে চাষ করেছেন। পানি না পেলে ধানের পাশাপাশি কৃষকের স্বপ্নও ভেঙে যাবে। তিনি দ্রুত সরকারি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
এদিকে নির্মাণাধীন সেতুর ঠিকাদার লিটু বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার অনুমতি নিয়েই সুইচগেট বন্ধ রাখা হয়েছে। কাজ শেষ হলে গেট খুলে দেওয়া হবে।
তবে বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, কাউকে দীর্ঘ সময়ের জন্য সুইচগেট বন্ধ রাখার অনুমতি দেওয়া হয়নি। বিষয়টি খতিয়ে দেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রামপাল উপজেলা নির্বাহী অফিসার মিজ তামান্না ফেরদৌসি বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা লিখিত অভিযোগ দিলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. মোতাহার হোসেন বলেন, বিষয়টি জেলা উন্নয়ন সভায় একাধিকবার উত্থাপন করা হয়েছে। দ্রুত সমাধান না হলে চলতি মৌসুমে উৎপাদন ঘাটতির আশঙ্কা রয়েছে।
এ অবস্থায় দ্রুত সুইচগেট খুলে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক করা ও সেচ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা। অন্যথায় উপকূলীয় এ অঞ্চলে বোরো মৌসুমে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়তে পারে কৃষি খাত।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available