• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ১৪ই আশ্বিন ১৪৩৩ বিকাল ০৫:২৯:৩০ (29-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:

বাংলাদেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নে হুয়াওয়ের তিন উদ্যোগ

১৩ ডিসেম্বর ২০২৪ দুপুর ১২:৫৮:১৫

বাংলাদেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নে হুয়াওয়ের তিন উদ্যোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: বাংলাদেশের আইসিটি খাতের উন্নয়নের লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, ডিজিটাল অর্থনীতি খাতসংশ্লিষ্ট অংশীজন এবং আইসিটি বিভাগের সাথে সম্মিলিতভাবে তিনটি নতুন উদ্যোগ নিয়েছে হুয়াওয়ে।

‘বাংলাদেশে, বাংলাদেশের জন্য’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে যে নতুন উদ্যোগগুলো হুয়াওয়ে নিয়ে এসেছে সেখানে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক উন্নয়নকে গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। প্রথম উদ্যোগ হিসেবে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রয়োজনীয় আসবাব ও সরঞ্জামাদি প্রদান, যাতে সেখানে ইনটেলিজেন্ট ক্লাসরুম চালু করা যায়।

দ্বিতীয় উদ্যোগটি হলো আইসিটি ডিভিশনের সাথে জয়েন্ট ইনোভেশন ল্যাব স্থাপন। এছাড়া তৃতীয় উদ্যোগ হিসেবে দেশের অর্থনৈতিক খাতের পেশাজীবী, বিশেষজ্ঞ, গবেষণা কর্মী ও শিক্ষকদের জন্য ‘চীন-বাংলাদেশ ফিনটেক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রামের’ সূচনা। ঢাকার গুলশানে হুয়াওয়ের নতুন অফিসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে এই উদ্যোগসমূহের ঘোষণা দেয়া হয়।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হুয়াওয়ে সাউথ এশিয়ার প্রেসিডেন্ট ও হুয়াওয়ে বাংলাদেশের সিইও প্যান জুনফেং। উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী, আইসিটি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. মো. মহিউদ্দিন এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার অধ্যাপক এম জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।

অনুষ্ঠানের বিশেষ একটি অংশ ছিলো ‘বাংলাদেশ ব্রডব্যান্ড কানেকটিভিটি রিসার্চ রিপোর্ট’-এর উন্মোচন। বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি) ও চায়না অ্যাকাডেমি অফ ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস্‌ টেকনোলজি (সিএআইসিটি) যৌথভাবে রিপোর্টটি প্রস্তুত করেছে। রিপোর্টটি উন্মোচন করেন (বিটিআরসি)-এর চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব.) মো. এমদাদ উল বারী। চায়না একাডেমি অব ইনফরমেশন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস্‌ টেকনোলজি (সিএআইসিটি)-এর ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়াং ঝিকিন ভার্চুয়ালি উন্মোচনে যোগদান করেন। বাংলাদেশে ব্রডব্যান্ডের উন্নয়ন নিয়ে এই রিপোর্টে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়েছে। জাতীয় ব্রডব্যান্ড নীতিমালা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড, ইকোসিস্টেম, ব্যবসার পরিবেশ ও সুনির্দিষ্টভাবে দেশের পরিস্থিতিকে এখানে তুলে ধরা হয়েছে। এর মাধ্যমে খাত সংশ্লিষ্টরা আগামী ৫ থেকে ১০ বছরে বাংলাদেশের ব্রডব্যান্ড সংযোগের উন্নয়ন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ ধারণা পাবেন।

প্রথম উদ্যোগের আওতায় হুয়াওয়ে ইনটেলিজেন্ট ক্লাসরুম স্থাপনের জন্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে প্রয়োজনীয় সরঞ্জামাদি যেমন আইডিয়া হাব, আধুনিক অ্যাক্সেস পয়েন্ট ও ডিজিটাল শিক্ষা উপকরণ প্রদান করবে। এর মাধ্যমে গবেষণায় দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক রূপান্তরের জন্য আগামীর নেতৃত্ব তৈরি হবে।

দ্বিতীয় উদ্যোগে হিসেবে হুয়াওয়ে ও বাংলাদেশের আইসিটি বিভাগ যৌথভাবে বাংলাদেশে একটি ইনোভেশন ল্যাব প্রতিষ্ঠা করবে। এই ল্যাবে বাংলাদেশে দক্ষ আইসিটি পেশাজীবী গড়ে তুলতে অত্যাধুনিক প্রযুক্তির উপরে প্রশিক্ষণ দেবে হুয়াওয়ে। বাংলাদেশে আইসিটি উদ্ভাবনের সক্ষমতা বাড়াতে ও আইসিটি কর্মীদের প্রশিক্ষণের জন্য এই গবেষণাগার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

এছাড়াও, বাংলাদেশের অর্থনীতি খাতকে আরও বেশি প্রযুক্তিনির্ভর ও সমৃদ্ধ করতে হুয়াওয়ে ‘চীন-বাংলাদেশ ফিনটেক এক্সচেঞ্জ প্রোগ্রাম’ চালু করবে। এই উদ্যোগে বাংলাদেশের বিশেষজ্ঞরা চীনে ফিনটেকের উপর উন্নত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করবেন। এই কর্মসূচির লক্ষ্য হলো ফিনটেক ও মাইক্রোফিনান্স প্রযুক্তির মাধ্যমে বৈষম্য কমিয়ে সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করা।  

ইয়াও ওয়েন বলেন, “বিশ্বের শীর্ষ আইসিটি অবকাঠামো প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে হুয়াওয়ে বাংলাদেশে গত ২৬ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে নিষ্ঠার সাথে কাজ করে চলেছে। হুয়াওয়ে বাংলাদেশের আইসিটি খাতকে ২জি থেকে শুরু করে ৫জিতে নেতৃত্ব দিয়েছে এবং দেশের একটি গুরুত্বপূর্ণ ডিজিটাল কমিউনিকেশন সেবাদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে চীনের প্রতিষ্ঠানগুলির ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি দেখে আমি আনন্দিত।“

প্যান জুনফেং বলেন, “বাংলাদেশে হুয়াওয়ের পথ চলা একটি অনন্য উদ্ভাবনের যাত্রা। আমরা বাংলাদেশি জনগণের সঙ্গে একসাথে বিভিন্ন বাধা অতিক্রম করেছি। বাংলাদেশের উন্নয়নে আমরা গুরত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছি। এই নতুন অফিস উদ্বোধন দক্ষিণ এশিয়ায় হুয়াওয়ের যাত্রার নতুন এক সূচনা। আমরা আরও দৃঢ়ভাবে কাজ করে যাবো, আরও বেশি বিনিয়োগ করবো এবং উদ্ভাবন চালিয়ে যাবো, যাতে এর মাধ্যমে আমরা দক্ষিণ এশিয়া ও বাংলাদেশের বুদ্ধিবৃত্তিক রূপান্তর ও টেকসই উন্নয়নে দীর্ঘমেয়াদী অবদান রাখতে পারি।”

মেজর জেনারেল (অব.) মো. ইমদাদ উল বারী বলেন, “হুয়াওয়ে বাংলাদেশের প্রযুক্তিগত অগ্রগতির যাত্রায় বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে। এই দেশের প্রতি হুয়াওয়ের অবিচল প্রতিশ্রুতি তাদের বড় পরিসরের বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহায়তা, পরামর্শ ও উদ্ভাবনী সমাধানের মাধ্যমে প্রতিফলিত হয়। প্রতিষ্ঠানটির একনিষ্ঠ সহযোগিতা আমাদের টেলিযোগাযোগ খাতকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে। বিশেষ করে, দেশের প্রত্যন্ত এলাকাগুলোতে সংযোগ সম্প্রসারণে হুয়াওয়ের অবদান প্রশংসনীয়।“

ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, “আমি মনে করি, চীন ও বাংলাদেশ দীর্ঘ সময় ধরে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখেছে এবং তা আরও উন্নত হচ্ছে। ঢাকায় হুয়াওয়ের দক্ষিণ এশিয়ার সদর দপ্তর দেখে আমি আনন্দিত হয়েছি। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য হুয়াওয়েকে আমি অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানাই। এটি আমাদের উন্নয়ন, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বাংলাদেশের তরুণদের উন্নতির জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ।“

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ


ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় ২ ঈদ
ক্যালিফোর্নিয়ার সরকারি ছুটির তালিকায় ২ ঈদ
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:১৩:১৪

ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৬ মৃত্যু
ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৬ মৃত্যু
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৫:১৩:০৯




হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ছাড়াল ১১০০
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ছাড়াল ১১০০
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:৪০:১৮

এআই ব্যবহারে পরিমিত হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
এআই ব্যবহারে পরিমিত হওয়ার আহ্বান রাষ্ট্রপতির
২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বিকাল ০৪:২৬:৩৯