• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ২২শে আষাঢ় ১৪৩৩ সকাল ০৯:২৭:০১ (06-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

দেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলন-সংগ্রামে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।৩০ জুন মঙ্গলবার রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় তিনি এসব কথা বলেন।প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘প্রাচ্যের অক্সফোর্ড’ খ্যাত উপমহাদেশের অন্যতম প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ১০৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী জাতির জন্য গৌরবের। ১৯২১ সালের ১ জুলাই প্রতিষ্ঠার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টি উচ্চশিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও গবেষণায় অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে।তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের স্বৈরাচারবিরোধী গণ-অভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ফ্যাসিবাদবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিশ্ববিদ্যালয়ের অসংখ্য শিক্ষার্থী আত্মত্যাগ করেছেন। সেই ত্যাগের ধারাবাহিকতায় দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। এখন গণতন্ত্রকে আরও সুসংহত করার দায়িত্ব সবার, আর এ ক্ষেত্রেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য— ‘গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও উচ্চশিক্ষায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’— বর্তমান বাস্তবতায় অত্যন্ত সময়োপযোগী।চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় শিক্ষা ব্যবস্থাকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই), সাইবার নিরাপত্তা, প্রোগ্রামিং, ডিজিটাল উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং, ন্যানোটেকনোলজি এবং ফাইভ-জি প্রযুক্তির মতো বিষয়গুলো শিক্ষা কারিকুলামে অন্তর্ভুক্ত করা সময়ের দাবি।তিনি আরও বলেন, শিক্ষাকে শুধু সনদনির্ভর না রেখে কর্মদক্ষতা ও ব্যবহারিক জ্ঞানের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতা বাড়িয়ে ইন্টার্নশিপ, অ্যাপ্রেন্টিসশিপ এবং ইন্ডাস্ট্রি-একাডেমিয়া সংযোগ আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ, গবেষণার সংস্কৃতি শক্তিশালী করা এবং উদ্ভাবনে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপরও গুরুত্ব দেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক মানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে হলে পাঠদানের পাশাপাশি গবেষণা ও উদ্ভাবনে আরও বেশি মনোযোগ দিতে হবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থীদের (অ্যালামনাই) শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের অনেক দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যালামনাইরা গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ পৃষ্ঠপোষকতা করেন। একই ধরনের উদ্যোগ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্ষেত্রেও আরও বিস্তৃত হওয়া প্রয়োজন।তিনি আরও বলেন, সংস্কৃতি, খেলাধুলা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডকে শিক্ষাব্যবস্থার অংশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। বৈশ্বিক কর্মবাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে শিক্ষার্থীদের বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি অন্তত একটি বিদেশি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের পাশাপাশি প্রযুক্তিগত ও নৈতিক শিক্ষায় সমৃদ্ধ হতে হবে। একই সঙ্গে মানসিক স্বাস্থ্য, সামাজিক অন্তর্ভুক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় থেকেই এমন পরিবেশ তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীরা শুধু চাকরিপ্রার্থী না হয়ে নিজেরাই কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারে। এ ক্ষেত্রে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঐতিহাসিক ভূমিকা রাখতে সক্ষম।শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সার্বিক সাফল্য কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী।