• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১২ই শ্রাবণ ১৪৩৩ সকাল ০৮:৪২:০১ (27-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
বাবা-মাকে বাদ দিয়ে শৈশবের বন্ধুর নামে ৩৬ কোটি টাকার উইল

বাবা-মাকে বাদ দিয়ে শৈশবের বন্ধুর নামে ৩৬ কোটি টাকার উইল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: চীনের সাংহাইয়ে ১৯ বছর বয়সী এক শিক্ষার্থী নিজের প্রায় দুই কোটি ইউয়ান (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩৬ কোটি টাকা) মূল্যের সম্পত্তি বাবা-মাসহ পরিবারের সদস্যদের পরিবর্তে শৈশবের এক ঘনিষ্ঠ বন্ধুর নামে উইল করে দিয়েছেন। সম্প্রতি উইলটি আনুষ্ঠানিকভাবে সত্যায়িত হওয়ার পর বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।গোপনীয়তার স্বার্থে ওই শিক্ষার্থীর পূর্ণ নাম প্রকাশ করা হয়নি। কেবল তার পদবি ‘লি’ প্রকাশ করা হয়েছে। সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট জানিয়েছে, তার সম্পদের মধ্যে রয়েছে একটি ফ্ল্যাট এবং উল্লেখযোগ্য পরিমাণ সঞ্চয়।লি জানান, বাবা-মায়ের বিচ্ছেদের পর দুজনই নতুন করে বিয়ে করেন। পরে তারা তাকে এসব সম্পদ দেন। ব্যক্তিগত কারণের পাশাপাশি বাস্তব চিন্তা থেকেও তিনি আগেভাগে উইল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কারণ তিনি নিয়মিত বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ খেলাধুলায় অংশ নেন। ভবিষ্যতে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে তার সম্পত্তি যেন নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী বণ্টন হয়, সে লক্ষ্যেই এই ব্যবস্থা নিয়েছেন।তিনি আরও বলেন, বাবা ও মায়ের বর্তমান জীবনসঙ্গীদের তিনি নিজের পরিবারের সদস্য হিসেবে মনে করেন না। তাই তারা যাতে ভবিষ্যতে তার সম্পত্তির কোনো অংশ না পান, সেটিও নিশ্চিত করতে চেয়েছেন। এ কারণে বহু বছরের পরিচিত ও বিশ্বস্ত শৈশবের বন্ধুকেই একমাত্র উত্তরাধিকারী হিসেবে মনোনীত করেছেন।চীনের উত্তরাধিকার আইন অনুযায়ী, লি অবিবাহিত এবং তার কোনো সন্তান নেই। ফলে সাধারণ নিয়মে তার মৃত্যুর পর বাবা-মাই বৈধ উত্তরাধিকারী হতেন। তবে দেশটির আইনে বৈধ উইলের মাধ্যমে নিকট আত্মীয়দের বাইরে অন্য যেকোনো ব্যক্তির নামেও সম্পত্তি রেখে যাওয়ার সুযোগ রয়েছে।লি সাংহাইয়ের চায়না উইল রেজিস্ট্রেশন সেন্টার-এ তার উইল নিবন্ধন করেছেন। কেন্দ্রটির নিয়ম অনুযায়ী, মনোনীত উত্তরাধিকারীকে উইলকারীর মৃত্যুর ৬০ দিনের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পত্তি গ্রহণ করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তা না করলে তিনি ওই সম্পত্তির ওপর আইনগত দাবি হারাতে পারেন।এদিকে, এই ঘটনায় চীনে অল্প বয়সে উইল করার প্রবণতাও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। চায়না উইল রেজিস্ট্রেশন সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে উইল নিবন্ধনকারীদের গড় বয়স ৭৭ বছর থেকে কমে ৬৭ বছরে নেমে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আশির দশক, নব্বইয়ের দশক এবং ২০০০ সালের পর জন্ম নেওয়া প্রজন্মের মধ্যে আর্থিক পরিকল্পনা ও উত্তরাধিকার ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতা বাড়ছে।লির সিদ্ধান্ত নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ নিজের আইনি অধিকার প্রয়োগ করে ভবিষ্যতের পরিকল্পনা করায় তার প্রশংসা করেছেন, আবার কেউ পরিবারের সদস্যদের বাদ দিয়ে বন্ধুকে একমাত্র উত্তরাধিকারী করার সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন।