হাতিরঝিলে নির্মাণাধীন ভবন থেকে শিশুর মরদেহ উদ্ধার
নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর হাতিরঝিল থানার পশ্চিম উলন এলাকায় একটি নির্মাণাধীন ভবন থেকে তাসনিম আক্তার (৬) নামে এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। লিফটের ফাঁকা স্থানে জমে থাকা পানিতে মহদেহ পাওয়া গেলেও পরিবারের দাবি হত্যা করা হয়েছে।২৪ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার রাত সাড়ে আটটার দিকে বাসার বাহিরে যায় তাসনুম। অনেক খোঁজাখুঁজির পর রাত বারোটার দিকে বাসার পাশের নির্মাণাধীন ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গায় থেকে পাওয়া যায় শিশুটিকে। পরবর্তীতে হাতিরঝিল থানা পুলিশকে খবর দেওয়া হলে পুলিশের সহায়তায় রাত পৌনে তিনটার দিকে তাসনিমকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে দায়িত্বরত চিকিৎসকও তাকে মৃত ঘোষণা করেন।মৃত তাসনিম আক্তার স্থানীয় একটি মাদ্রাসার প্রথম শ্রেণিতে পড়ত। তার বাড়ি কুমিল্লা জেলার তিতাস উপজেলার আলীর গাঁও গ্রামে। তার বাবা মো. লিটন মিয়া পেশায় গারমেন্টস কর্মী। বর্তমানে পরিবারসহ হাতিরঝিলের পশ্চিম উলন এলাকায় ভাড়া বাসায় থাকতেন তারা। এক ভাই ও এক বোনের মধ্যে তাসনিম ছিল ছোট।শিশুটির চাচা মো. স্বপন মিয়া জানান, লিফটের পানির ভেতর থেকে উদ্ধারের পর তাহেদীর মুখে বিস্কুটের গুঁড়া দেখা গেছে। পাশের ভবনের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনাটি নিছক দুর্ঘটনা নাকি অন্য কোনো বিষয় জড়িত আছে, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানান তাহেদীর পরিবার।শিশুটির মা মিতু আক্তার জানান, আমার মেয়ে ওখানে যাওয়ার কথা না কীভাবে গেলো তা আমি জানি না। রাতের খাবার খেয়ে প্রতিদিনের মতন সহপাঠীদের সাথে খেলতে যায়। অনেক খোঁজাখুঁজির পরে এ ভবনের লিফটের ফাঁকা জায়গা থেকে মৃত অবস্থায় তাসনুমকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারের পর তার মুখথেকে শকনা বিস্কুটের গুড়া বের হয়েছে। এ থেকে ধারণা করছি তাকে হত্যা করা হয়েছে। পরে পানিতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখলে সব বের হয়ে যাবে। আমি বিচার চাই।ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বলেন, মরদেহ মর্গে রাখা হয়েছে এবং বিষয়টি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট হাতিরঝিল থানা অবগত আছে।হাতিরঝিল থানার ওসি গোলাম মর্তুজার সাথে যোগাযোগ করলে তিনি মুঠোফোনে জানান, শিশুটির মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, মরদেহ মর্গে রয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পরে জানা যাবে।