লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছে আরও ১৭২ বাংলাদেশি
অনলাইন ডেস্ক: লিবিয়ার মিসরাতা থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন ১৭২ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিক। এর মধ্যে ১৮ জন অসুস্থ রয়েছেন। ২৯ অক্টোবর বৃহস্পতিবার ভোর ৪টা ৫১ মিনিটে বুরাক এয়ারের একটি বিশেষ ফ্লাইটে তারা বাংলাদেশে ফেরেন।এর আগে, ২৭ অক্টোবর মঙ্গলবার লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক আরও ১৭৪ জন বাংলাদেশি দেশে ফিরেছিলেন।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে লিবিয়া সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) সহযোগিতায় তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বিমানবন্দরে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের অভ্যর্থনা জানান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আইওএম-এর কর্মকর্তারা।প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় প্রবেশ করেছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের অনেকে বিভিন্ন সময়ে লিবিয়ায় অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন বলে অভিযোগ রয়েছে।জনসচেতনতা বাড়াতে প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশিদের প্রতি তাদের দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সবার সঙ্গে বিনিময়ের অনুরোধ জানিয়েছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।দেশে ফেরার আগে লিবিয়ায় নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল হাবীব উল্লাহ মিসরাতা শহরে প্রত্যাবাসনের অপেক্ষায় থাকা এসব প্রবাসীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি অনিয়মিত অভিবাসনের বিভিন্ন ঝুঁকি এবং এর শারীরিক, মানসিক, আর্থিক ও সামাজিক ক্ষতিকর দিকগুলো তুলে ধরে তাদের সচেতন করেন। পাশাপাশি মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের যেকোনো প্রলোভন থেকে দূরে থাকার কঠোর সতর্কবার্তা দেন।দূতাবাস জানিয়েছে, লিবিয়ার বিভিন্ন বন্দিশালায় আটক এবং স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক বিপদগ্রস্ত বাংলাদেশিদের নিরাপদ ও মানবিক প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বেনগাজীর গানফুদা ও ত্রিপুরীর তাজুরা বন্দিশালায় আটক প্রবাসীদের দ্রুত ফেরাতে আইওএমের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ ও সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে।আইওএম-এর পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে যাতায়াত খরচ, কিছু খাদ্যসামগ্রী ও প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থাও করা হয়েছে।লিবিয়ার বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা একসঙ্গে কাজ করছে।এটিভি/এসটিও