পাহাড়ি ঢলে সেতু ধস, রাঙ্গামাটি-বান্দরবান সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন
অনলাইন ডেস্ক: টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে রাঙ্গামাটি ও বান্দরবানের মধ্যে সরাসরি সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। প্রবল স্রোতে বান্দরবান–রাঙ্গামাটি সড়কের ব্রিজঘাট এলাকার একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুর অংশ ধসে পড়ায় সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।১১ জুলাই শনিবার এ ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার একটি রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে রাঙ্গামাটির রাজস্থলীসহ বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।স্থানীয় সূত্র জানায়, কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে পাহাড়ি ছড়া ও নদ-নদীর পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পায়। একপর্যায়ে পাহাড়ি ঢলের তোড়ে ব্রিজঘাট সেতুর একটি বড় অংশ ধসে পড়ে। এতে দুই জেলার মধ্যে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় রোগী পরিবহন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ এবং সাধারণ মানুষের চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বিকল্প সড়ক না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।অন্যদিকে, পানির তীব্র চাপে রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের সুখবিলাস দুধপুকুরিয়া এলাকার রাবার ড্যামের বেড়িবাঁধ ভেঙে যায়। এতে রাজস্থলী উপজেলার নিম্নাঞ্চলসহ আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বহু বসতঘরে পানি ঢুকে পড়ায় স্থানীয়রা নিরাপদ স্থানে আশ্রয় নিচ্ছেন। পাশাপাশি কৃষিজমি ও মাছের ঘেরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতি বর্ষা মৌসুমেই পাহাড়ি ঢলে একই ধরনের দুর্ভোগের মুখে পড়তে হলেও স্থায়ী কোনো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার বিষয়ে স্থানীয় বাসিন্দা মো. আলী আকবর বলেন, সেতুটি ধসে পড়ায় দুই জেলার মানুষের চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এতে রোগী, শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষ সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন।রাজস্থলী প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মো. সুমন জানান, রাতভর বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলের পর সকালে উঠে চারদিকে শুধু পানি দেখা যায়। বসতঘর ও ফসলের ক্ষতির পাশাপাশি যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামনি বলেন, তিনিও পরিবারসহ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। তবে সেতু ধসের ঘটনায় দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে প্রশাসন কাজ করছে।স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে পাহাড়ি ঢল ও তীব্র স্রোতপূর্ণ এলাকা এড়িয়ে চলার জন্য জনগণকে সতর্ক করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ এবং জরুরি পুনর্বাসন কার্যক্রমের প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।