ইরানের হামলার ভয়ে বি-১ বোমারু বিমান সরাল যুক্তরাষ্ট্র
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় যুক্তরাজ্যের রয়্যাল এয়ার ফোর্সের ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের বি-১ বোমারু বিমান সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। রোববার বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জরুরি ভিত্তিতে ঘাঁটিতে থাকা বিমানগুলো যুক্তরাষ্ট্রের নিজ নিজ ঘাঁটির উদ্দেশে রওনা হয়।এর আগে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটিতে প্রায় এক ডজন বি-১ বোমারু বিমান মোতায়েন ছিল। মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তরের এক মুখপাত্র রয়টার্সকে বলেন, নিরাপত্তার কারণে সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনীর চলাচল তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে পরে নিশ্চিত করা হয়, ফেয়ারফোর্ডে থাকা সব মার্কিন বোমারু বিমান যুক্তরাষ্ট্রের ঘাঁটিতে ফিরে গেছে।ঠিক কী কারণে বিমানগুলো সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট করেনি যুক্তরাষ্ট্র। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাতে ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি মার্কিন বোমারু বিমান পরিচালনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।লন্ডন থেকে প্রায় ১৬০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটি ঘিরে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা উদ্বেগও তৈরি হয়েছে। গত ২৭ সেপ্টেম্বর যুক্তরাজ্যের কর্তৃপক্ষ পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে। তাদের বিরুদ্ধে ঘাঁটির কাছে বিস্ফোরক পুঁতে রাখার পরিকল্পনার সন্দেহ ছিল। তবে ইরান এমন কোনো পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে।গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের পরদিন কোনো অভিযোগ ছাড়াই ছেড়ে দেওয়া হয়। তাদের ব্যবহৃত একটি ভ্যান থেকে পেট্রল পাওয়া গেলেও বিস্ফোরক পাওয়া যায়নি। তবে ব্রিটিশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।এর মধ্যেই গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ পুলিশ জানায়, ফেয়ারফোর্ড বিমানঘাঁটিতে হামলার পরিকল্পনার সন্দেহে লন্ডন থেকে ২৫ বছর বয়সী এক ব্রিটিশ-ইরানি দ্বৈত নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়েছে।যুক্তরাজ্যের সন্ত্রাসবিরোধী পুলিশিংয়ের জ্যেষ্ঠ জাতীয় সমন্বয়ক ভিকি ইভান্স বলেন, গ্লুচেস্টারশায়ারের ঘটনাগুলোর তদন্ত অত্যন্ত জটিল। তদন্তের বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের সম্পৃক্ততার সম্ভাবনাও বিবেচনায় রাখা হয়েছে।এর আগে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহাম কথিত হামলার পরিকল্পনায় ইরানের ভূমিকা থাকার ইঙ্গিত দিলেও এর বিস্তারিত প্রকাশ করেননি। অন্যদিকে, গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তেহরানে নিযুক্ত ব্রিটিশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করে ইরান।ফেয়ারফোর্ড ঘাঁটির সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ১৯৯০-এর দশকের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময়ও ঘাঁটিটি ব্যবহার করা হয়েছিল। ২০০৩ সালে ইরাক যুদ্ধের সময়ও ঘাঁটিটি ঘিরে যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হয়েছিল।ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে যুক্তরাজ্য এখন পর্যন্ত বড় পরিসরে সরাসরি অংশ নেয়নি। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে সহায়তার অংশ হিসেবে মার্চে ফেয়ারফোর্ড ও আরএএফ দিয়েগো গার্সিয়াসহ কয়েকটি ঘাঁটি ‘প্রতিরক্ষামূলক’ কাজে ব্যবহারের অনুমতি দেয় ব্রিটিশ সরকার।সূত্র: রয়টার্স