• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ৮ই মাঘ ১৪৩২ রাত ০২:৩৯:৪৮ (22-Jan-2026)
  • - ৩৩° সে:
২৭ বিসিএসে সহকারী কমিশনার হিসেবে গ্যাজেটভুক্ত হলেন আল-আমিন

২৭ বিসিএসে সহকারী কমিশনার হিসেবে গ্যাজেটভুক্ত হলেন আল-আমিন

ইইউবি প্রতিনিধি :২৭তম বিসিএসের মেধা তালিকায় ৬০তম স্থান অর্জন করেও দীর্ঘদিন অন্যায়ভাবে গ্যাজেট থেকে বাদ পড়া দেওয়ান মো. আল-আমিন অবশেষে ২০২৫ সালে পুনরায় গ্যাজেটভুক্ত হলেন। দীর্ঘ প্রতীক্ষা ও নীরব সংগ্রামের অবসান ঘটিয়ে গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর ২০২৫) মন্ত্রণালয়ের নব নিয়োগ শাখা থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে তার গ্যাজেট প্রকাশ করা হয়।সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এটি প্রশাসনিক ইতিহাসে একটি ব্যতিক্রমী ও দৃষ্টান্তমূলক সিদ্ধান্ত। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে রাষ্ট্র আবারও প্রমাণ করেছে ন্যায়বিচার বিলম্বিত হতে পারে, কিন্তু অস্বীকৃত নয়।দীর্ঘ এই সময়ে দেওয়ান মোঃ আল-আমিন নিজেকে ভেঙে পড়তে দেননি। শিক্ষা প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় তিনি সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রেখে চলেছেন। বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক ও সহকারী অধ্যাপকসহ গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। বর্তমানে তিনি ইউরোপিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ-এর ডিরেক্টর সিকিউরিটি এবং প্রক্টর ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক নিরাপত্তা, শৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রশাসনিক সমন্বয়ে তার ভূমিকা প্রশংসিত হয়েছে।পুনর্গ্যাজেটের মাধ্যমে তিনি ২৭তম বিসিএস থেকে প্রশাসন ক্যাডারে সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হলেন।এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আল-আমিন বলেন, এই গ্যাজেট শুধু একটি সরকারি প্রজ্ঞাপন নয়; এটি আমার জীবনের দীর্ঘ ১৮ বছরের নীরব সংগ্রাম, অপেক্ষা ও আত্মসংযমের স্বীকৃতি। বহুবার মনে হয়েছে রাষ্ট্র ২৭তম বিসিএস থেকে অন্যায়ভাবে বাদ পড়া আমাদের ভুলে গেছে। মনে হয়েছে, আমি ভুলে যাওয়া একজন মানুষ। কিন্তু আজ রাষ্ট্র প্রমাণ করেছে ন্যায় দেরিতে হলেও অস্বীকার করা যায় না।তিনি আরও বলেন, ২০০৭ সালে যে ঈদ পরিবার-পরিজনের সঙ্গে আনন্দে কাটানোর কথা ছিল, সেই ঈদ কাটিয়েছি কেন্দ্রিয় শহীদ মিনারে আন্দোলন ও অনশন কর্মসূচিতে। এই স্বীকৃতিকে আমি শুধু নিজের অর্জন হিসেবে দেখি না। যারা যোগ্য হয়েও নানা কারণে বঞ্চিত, তাদের জন্য এটি একটি আশার আলো। সত্য ও যোগ্যতা একদিন না একদিন প্রতিষ্ঠিত হয় আজ তার প্রমাণ পেলাম।ছোটবেলা থেকেই মেধা ও মননের স্বাক্ষর রেখে এগিয়ে চলেছেন আল-আমিন। শিক্ষাজীবনের প্রতিটি ধাপে কৃতিত্বের স্বাক্ষর রেখে তিনি নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন একজন মেধাবী ও মানবিক ব্যক্তিত্ব হিসেবে। মাধ্যমিক পরীক্ষায় তিনি রাজশাহী বোর্ডে মেধাতালিকায় ষষ্ঠ স্থান অর্জন করেন এবং উচ্চ মাধ্যমিকে ১৭তম স্থান অর্জনের মাধ্যমে শিক্ষাঙ্গনে আলোচনায় আসেন।১৯৯৬ সালে পাবনা ক্যাডেট কলেজ থেকে এসএসসি এবং ১৯৯৮ সালে একই প্রতিষ্ঠান থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য তিনি তার মেধা দিয়ে জায়গা করে নেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেখান থেকে ২০০৪ সালে এলএলবি এবং ২০০৫ সালে এলএলএম ডিগ্রি অর্জন করে আইন শিক্ষায় নিজের অবস্থান সুদৃঢ় করেন।শুধু একাডেমিক সাফল্যেই সীমাবদ্ধ ছিলেন না আল-আমিন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডেও তিনি ছিলেন সমানভাবে সক্রিয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি যুক্ত ছিলেন স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতা সংগঠন ‘বাঁধন’-এর সঙ্গে। “একজনের রক্ত, আরেকজনের জীবন, রক্তেই হোক আত্মার বন্ধন” এই আদর্শকে বুকে ধারণ করে তিনি নিয়মিতভাবে রক্তদান ও মানবসেবামূলক কার্যক্রমে অংশ নিতেন। মানবতার সেবায় তার নিরলস অবদানের জন্য একাধিকবার পেয়েছেন সম্মাননা ও পুরস্কার।বিশেষজ্ঞদের মতে, তার মতো গুণী মানুষদের এই পুনর্গ্যাজেট প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত। একই সঙ্গে এটি প্রমাণ করে, প্রশাসনে দীর্ঘসূত্রতা থাকলেও ন্যায্য দাবি একসময় স্বীকৃতি পায়।গ্যাজেট প্রকাশের পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, সহকর্মী, সাবেক শিক্ষার্থী ও শুভানুধ্যায়ীরা তাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের প্রত্যাশা, প্রশাসন ক্যাডারে তার দীর্ঘ বাস্তব অভিজ্ঞতা ও সংগ্রামের ইতিহাস ভবিষ্যতে রাষ্ট্র পরিচালনায় মানবিক, ন্যায়নিষ্ঠ ও দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে সহায়ক হবে।