গুলিস্তানের আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার বন্ধ, দুর্ভোগে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের যাত্রীরা
অনলাইন ডেস্ক: গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া আন্তঃজেলা বাস কাউন্টার বন্ধ থাকায় দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। যাত্রী ও বাস মালিকদের অভিযোগ, পর্যাপ্ত সময় ও কার্যকর বিকল্প ব্যবস্থা ছাড়াই কাউন্টার বন্ধ করে দেওয়ায় প্রতিদিন হাজারো মানুষ দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।সরকার রাজধানীর যানজট নিরসনের লক্ষ্যে গুলিস্তান, সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী বাস টার্মিনাল স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে এখন পর্যন্ত সায়েদাবাদ, মহাখালী ও গাবতলী টার্মিনাল আগের স্থানেই থাকলেও কেবল গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া আন্তঃজেলা বাস কাউন্টারের কার্যক্রম বন্ধ করা হয়েছে।এর আগে রাজধানীর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল থেকে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রীরা সহজেই নিজ নিজ গন্তব্যে যাতায়াত করতে পারতেন। সম্প্রতি ঢাকা মহানগরীর যানজট নিরসনসংক্রান্ত এক সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ব্যক্তি মালিকানাধীন আন্তঃজেলা বাসগুলোকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়।বাস মালিকদের অভিযোগ, বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত বা পর্যাপ্ত প্রস্তুতির সুযোগ না দিয়েই ফুলবাড়িয়ার নির্ধারিত কাউন্টারগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রতিদিন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে যাতায়াতকারী বিপুলসংখ্যক যাত্রীকে অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।যাত্রীদের ভাষ্য, গুলিস্তান এলাকার সঙ্গে মেট্রোরেলের দুটি স্টেশনের সংযোগ থাকায় ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থেকে যাতায়াত ছিল সহজ ও সুবিধাজনক। কাউন্টার বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর এখন অনেককে গুলিস্তান থেকে হেঁটে বা রিকশায় দূরবর্তী স্থানে গিয়ে বাসে উঠতে হচ্ছে, যা সময় ও ব্যয় দুইই বাড়িয়ে দিয়েছে।বাস মালিকরা জানান, সরকারের সিদ্ধান্তের সঙ্গে তারা নীতিগতভাবে একমত। তবে যাত্রীদের স্বার্থ বিবেচনায় স্থানান্তরের আগে বিকল্প ব্যবস্থা নিশ্চিত এবং প্রয়োজনীয় সময় দেওয়া উচিত ছিল। তাদের মতে, রাজধানীর অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল এখনো স্থানান্তর না হওয়ায় ফুলবাড়িয়ার ক্ষেত্রেও একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে।তাদের দাবি, ফুলবাড়িয়া টার্মিনালকেন্দ্রিক অসংখ্য পরিবহন শ্রমিক ও কাউন্টারকর্মী বর্তমানে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন। এতে অনেক পরিবার আর্থিক সংকটে পড়েছে। একই সঙ্গে আন্তঃজেলা বাস চলাচল বন্ধ থাকায় সরকারও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে বলে দাবি করেন বাস মালিকরা।