কলকাতায় অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ ফিরবে শনিবার
ডেস্ক রিপোর্ট: কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশিদের মরদেহ আগামীকাল শনিবারের (২২ আগস্ট) মধ্যে দেশে পাঠানো হবে।২১ আগস্ট শুক্রবার কলকাতাস্থ বাংলাদেশের ডেপুটি হাইকমিশনার মোহাম্মদ খালেদ সংবাদ সম্মেলন করে এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, নিহতদের মধ্যে পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ দেশে ফেরত পাঠানো হবে বেনাপোল সীমান্ত দিয়ে। তারা হলেন কুষ্টিয়ার বাসিন্দা আজকের পত্রিকার কুষ্টিয়া প্রতিনিধি ও কুষ্টিয়ার মোহিনী মিল এলাকার দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তিন বছর বয়সি সন্তান শর্ণশীষ দত্ত এবং তার শশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের আহামেদ বাবু।সেক্ষেত্রে শুক্রবার বিকালের মধ্যেই দেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ দূতাবাস কর্তৃপক্ষ। তবে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে সমস্ত আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হলে মরদেহ পাঠানোর ক্ষেত্রে শুক্রবারের বদলে শনিবার সময় লাগতে পারে।অন্যদিকে সাতক্ষীরার বাসিন্দা মৃত এস এম আলিমুজ্জামানের মরদেহ ভোমরা সীমান্ত দিয়ে দেশে ফেরত পাঠানো হবে। তবে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের বাসিন্দা মৃত রেবতী সরকারের পরিবারের আর্জি অনুযায়ী কলকাতায় দেহ সৎকার করা হতে পারে।মোহাম্মদ খালেদ জানান, রেবতী সরকারের ছেলে আর্জি জানিয়েছেন তারা তার মায়ের দেহ কলকাতাতেই সৎকার করতে আগ্রহী। আমরা তাদের জানিয়েছি যে এটার জন্য স্থানীয় (পশ্চিমবঙ্গ সরকার) কর্তৃপক্ষের অনুমতি প্রয়োজন। বিষয়টি আমরা ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানাবো। এই অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেব।মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেটে মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে এই সাত বাংলাদেশির মৃত্যু হয়। তাদের মধ্যে এক শিশু ও দুইজন নারী রয়েছেন।অন্যদিকে নিহত দুই ভারতীয় হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান ও শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগরওয়াল।এর আগে বৃহস্পতিবারই দুই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ তাদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হয়।এদিন মৃত রেবতী সরকারের ছেলে অনিক সরকার জানান, প্রয়োজনীয় নথি এবং আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলে নিউমার্কেট থানার পুলিশ মায়ের মরদেহ আমাদের হাতে হস্তান্তর করবে। এরপর আমাদের ইচ্ছা এখানেই সৎকার করব।এদিকে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার আরও ১৭টি হোটেলের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছে পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। ব্যবসার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় অনুমতি না থাকার কারণে এই শোকজ নোটিশ জারি।এর আগে ৯টি আবাসিক হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ জারি করেছিল পশ্চিমবঙ্গের দমকল বিভাগ। সব মিলিয়ে মোট ২৬টি হোটেল ও ৪টি রেস্তোরাঁর বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করা হলো।