• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ১০ই আশ্বিন ১৪৩৩ ভোর ০৫:১৭:০৭ (26-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:
হবিগঞ্জে ধর্ষণের পর হত্যা, ২ জনের ফাঁসির আদেশ

হবিগঞ্জে ধর্ষণের পর হত্যা, ২ জনের ফাঁসির আদেশ

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি: হবিগঞ্জে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ২ জনের ফাঁসির আদেশ দিয়েছেন আদালত।১৩ সেপ্টেম্বর রোববার বিকেল সোয়া ৩টায় হবিগঞ্জ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আদালতের বিচারক জেলা ও দায়রা জজ সৈয়দা মিনহাজ উম মুনীরা এ রায় দেন।দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর (পূর্ব) ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের বাসিন্দা মিরাশ উদ্দিনের ছেলে খলিল উদ্দিন ও মৃত ইরশাদ উল্লাহ’র ছেলে মো. গোলাম হোসেন। রায় ঘোষণাকালে আসামিরা আদালতে হাজির ছিলেন।রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পাবলিক প্রসিকিউটর) কামাল উদ্দিন আহমেদ বলেন, এটি একটি চাঞ্চল্যকর হত্যা মামলা। একজন প্রেমের ফাঁদে ফেলে ধর্ষণ করে। অপরজন বিষয়টি দেখে জোরপূর্বক ধর্ষণ করতে চায়। পরে দু’জন মিলে মেয়েটিকে হত্যা করে। এটি চরম অমানবিক একটি বিষয়। তিনি বলেন, রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আসামিদের মৃত্যুদণ্ড এবং ৩০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে। তারা যদি আপিল করতে চান তবে আগামী ৭ দিনের মধ্যে আপিল করতে পারবেন।মামলার বিবরণে জানা যায়, নবীগঞ্জ উপজেলার বড় ভাকৈর পূর্ব ইউনিয়নের হরিনগর গ্রামের সুফি মিয়ার মেয়ে জুবা আক্তারের সাথে মোবাইল ফোনে কথোপকথনের মাধ্যমে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তুলেন একই গ্রামের মিরাশ উদ্দিনের ছেলে খলিল উদ্দিন। স্ত্রী সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি জুবার সাথে প্রেমে মশগুল হয়ে উঠেন। কিছুদিন প্রেম করার পর জুবা চিকিৎসার জন্য কিছু টাকা টাকা লাগবে বলে জানিয়ে তার পুরোনো রুপার চেইন বিক্রি করতে চায়। চেইন ক্রয় এবং টাকা দিতে রাজি হন প্রেমিক খলিল। তিনি জুবাকে ২০২১ সালের ২৬ ডিসেম্বর দিবাগত রাত ১টার সময় দেখা করতে বলেন। বিষয়টি খলিল গ্রামের ব্যবসায়ী গোলাম হোসেনকে জানান। রাতে জুবা দেখা করতে গেলে তাকে নিয়ে গ্রামের পার্শ্ববর্তী একটি জমিতে যান খলিল। এ সময় তারা শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেন। বিষয়টি লুকিয়ে গাছের আড়াল থেকে দেখেন গোলাম হোসেন। পরে তিনি গিয়ে জুবাকে ধর্ষণ করতে চান। এতে সে রাজি হয়নি। এক পর্যায়ে তাকে টানা হেঁচরা করতে থাকেন। কোনো অবস্থাতেই তাকে রাজি করতে না পেরে গোলাম হোসেন তাকে রাগে ওড়না দিয়ে তার দুই হাত বাঁধেন। পরে দু’জন তাকে গলায় ওড়না প্যাঁচিয়ে হত্যার পর ব্লেড দিয়ে গলা কাটেন। তার মৃত্যু নিশ্চিত করে তারা পালিয়ে যান। পরদিন দুপুরে পরিবারের লোকজন অনেক খেঁাজা খুজির পর তার মরদেহ পান। এ ঘটনায় নিহতের বাবা সুফি মিয়া বাদি হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন।এর প্রেক্ষিতে তদন্ত শেষে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) দুই জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দেয়। এর মধ্যে খলিল উদ্দিন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। উক্ত মামলায় সাক্ষ্য প্রমাণ শেষে বিচারক এ রায় দেন।