• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ৪ঠা ভাদ্র ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৬:১২:১২ (19-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:
নকল করতে না পেরে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, আহত ১০

নকল করতে না পেরে এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা-ভাঙচুর, আহত ১০

অনলাইন ডেস্ক: ভোলার চরফ্যাশনে এইচএসসি পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনের সুযোগ না পেয়ে একটি পরীক্ষা কেন্দ্রে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় শিক্ষক, কলেজ পরিচালনা পর্ষদের সভাপতিসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে।১১ জুলাই শনিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে উপজেলার ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজ কেন্দ্রে এ ঘটনা ঘটে।কলেজ সূত্রে জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পরীক্ষা চলাকালে কিছু পরীক্ষার্থী অসদুপায় অবলম্বনের চেষ্টা করলে কক্ষ পরিদর্শকরা তাতে বাধা দেন। এতে কয়েকজন পরীক্ষার্থী ক্ষুব্ধ হয়ে শিক্ষকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কলেজ কর্তৃপক্ষ উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ ও শিক্ষা বোর্ডকে বিষয়টি অবহিত করে। পরে কেন্দ্রে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়।পরীক্ষা শেষে দুপুর ১টার দিকে পরীক্ষার্থীদের একাংশ কলেজের প্রধান ফটকের সামনে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ শুরু করে। পরে তারা ফটক ভাঙার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে পেছনের গেট ভেঙে এবং দেয়াল টপকে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করে অধ্যক্ষের কক্ষসহ বিভিন্ন কক্ষে ভাঙচুর চালায়। একপর্যায়ে তারা পরীক্ষার উত্তরপত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করে। তবে শিক্ষকরা তা প্রতিহত করেন।এ ঘটনায় কলেজের গভর্নিং বডির সভাপতি হুমায়ুন কবির সিকদারসহ কয়েকজন শিক্ষক আহত হন। হামলাকারীদের ছোড়া ইটপাটকেলে কয়েকজন পথচারীও আহত হয়েছেন। আহতরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।ফাতেমা মতিন মহিলা কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. মহিউদ্দিন বাচ্চু জানান, কেন্দ্রটিতে চরফ্যাশন সরকারি কলেজের ৮৮৪ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নেয়। পরীক্ষা চলাকালে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। ঘটনার বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।চরফ্যাশন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাহমুদ আল ফরিদ ভূঁইয়া বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে দুই রাউন্ড টিয়ারশেল নিক্ষেপ করা হয়। বর্তমানে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।ভোলার জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান বলেন, পরীক্ষায় অসদুপায় অবলম্বনে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করেই এ হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। তিনি জানান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে কেন্দ্র সচিবসহ সংশ্লিষ্টদের নিয়ে জরুরি বৈঠক করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি কেন্দ্রের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।