তৃণমূলের নাম-প্রতীক ফিরে পেতে সুপ্রিম কোর্টে গেলেন মমতা
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় নাম ও দীর্ঘদিনের নির্বাচনি প্রতীক ব্যবহারে নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্টে আবেদন করেছেন পশ্চিমবঙ্গের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।১৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার তিনি এ আবেদন করেন। মামলাটি জরুরি ভিত্তিতে শুনানির জন্য ২১ সেপ্টেম্বর উল্লেখ করা হতে পারে বলে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। আবেদনটি এখনো নম্বরভুক্ত ও নিবন্ধিত হয়নি।এর আগে ১৭ সেপ্টেম্বর নির্বাচন কমিশন অন্তর্বর্তী আদেশে তৃণমূল কংগ্রেসের নাম ও সংরক্ষিত ‘জোড়াফুল’ প্রতীক ব্যবহারে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীর ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, দলের পরিচয় ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই গোষ্ঠীর মধ্যে বিরোধ তৈরি হওয়ায় বিরোধের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোনো পক্ষই পুরোনো নাম ও প্রতীক ব্যবহার করতে পারবে না।এরপর ১৮ সেপ্টেম্বর আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য দুই গোষ্ঠীকে পৃথক নাম ও প্রতীক বরাদ্দ দেয় নির্বাচন কমিশন। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন গোষ্ঠীকে ‘মমতা অল ইন্ডিয়া তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘ফুটবল খেলোয়াড়’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। অন্য গোষ্ঠীকে ‘ডেমোক্র্যাটিক তৃণমূল কংগ্রেস’ নাম ও ‘খাম’ প্রতীক দেওয়া হয়েছে। এসব নাম ও প্রতীক আসন্ন উপনির্বাচনের জন্য অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা হিসেবে দেওয়া হয়েছে।আগামী ৬ অক্টোবর পশ্চিমবঙ্গের নন্দীগ্রাম ও রেজিনগর বিধানসভা আসনে উপনির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। নির্বাচন সামনে রেখেই কমিশন দুই গোষ্ঠীর জন্য আলাদা পরিচয় ও প্রতীক নির্ধারণ করেছে। তবে এর মাধ্যমে তৃণমূলের মূল নাম ও ‘জোড়াফুল’ প্রতীকের চূড়ান্ত মালিকানা নির্ধারণ করা হয়নি। এ বিষয়ে কমিশনের পৃথক প্রক্রিয়া চলবে।সুপ্রিম কোর্টে করা আবেদনে মমতার পক্ষ থেকে নির্বাচন কমিশনের অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্তের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলীয় সাংগঠনিক কাঠামো, নির্বাচিত প্রতিনিধিদের অবস্থান এবং দলীয় নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয় যথাযথভাবে বিবেচনা করা হয়নি বলেও আবেদনে দাবি করা হয়েছে।এদিকে নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের পর তৃণমূলের নাম ও প্রতীক নিয়ে আইনি বিরোধ আরও তীব্র হয়েছে। এখন সুপ্রিম কোর্টের শুনানিতে কমিশনের অন্তর্বর্তী আদেশের বিষয়ে কী নির্দেশনা আসে, সেদিকেই নজর রয়েছে।সূত্র: ইন্ডিয়া টুডে