মতলব উত্তরে জুয়ার জমজমাট আসর, বাড়ছে চুরি-ছিনতাই ও ডাকাতি
মতলব (চাঁদপুর) প্রতিনিধি: চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলায় বিভিন্ন গ্রামে নিয়মিতভাবে জমে উঠছে জুয়ার আসর। এসব আসরে কৃষক, শ্রমিক, বিভিন্ন পেশাজীবী ও উঠতি বয়সী যুবকরা জড়িয়ে পড়ছেন। জুয়ার পাশাপাশি প্রকাশ্যে চলছে মাদক কেনাবেচা ও সেবন। এতে করে এলাকায় চুরি, ছিনতাই ও ডাকাতির ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।সটাকী, বাবু বাজার, দশানী, মোহনপুর, এখলাছপুর, সুজাতপুর, নতুন বাজার, কালীর বাজার, সাহেব বাজার, সাদুল্লাপুর ইউনিয়নের বেলতলী সওদাগর বাড়ি ও ছেংগারচরসহ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত, কোথাও আবার ভোর পর্যন্ত জুয়ার আসরে উড়ছে হাজার হাজার টাকা।স্থানীয়দের ভাষ্য, মাদকের মতোই জুয়ার নেশায় নিঃস্ব হয়ে পড়ছেন অনেক পরিবারপ্রধান। জুয়াকে কেন্দ্র করে বাড়ছে পারিবারিক কলহ। বিশেষ করে স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীদের জুয়ায় জড়িয়ে পড়া নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন অভিভাবকরা। অভিযোগ রয়েছে, জুয়া বন্ধে পুলিশের তৎপরতা পর্যাপ্ত না থাকায় এই সামাজিক ব্যাধি দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে।সরেজমিনে দেখা গেছে, দশানী নদীর পাড়, সটাকী ও কালীর বাজারের কয়েকটি দোকান, নন্দলালপুরের সিরাজ বেপারীর বাড়ি ও আশপাশের বাগানে নিয়মিত জুয়ার আসর বসছে। এছাড়া ইমামপুর, হানিরপাড়া, পালালোকদি এলাকাসহ প্রায় সব গ্রামেই কমবেশি জুয়ার কার্যক্রম চলছে। ছেংগারচর বাজারের আশপাশে অন্তত ৮ থেকে ১০টি স্থানে জুয়া ও মাদকের আসর বসার তথ্যও পাওয়া গেছে।স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছু রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তি এসব জুয়ার আসর থেকে নিয়মিত মাসোহারা নেন, যার ফলে জুয়া বন্ধ করা যাচ্ছে না। এ ছাড়া আশ্রয়ন প্রকল্পগুলোতে মাদক বিক্রি ও সেবনের আসর গড়ে উঠেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।নাম প্রকাশ না করার শর্তে দশানী গ্রামের কয়েকজন বাসিন্দা জানান, সম্প্রতি পুলিশ কয়েকজন জুয়ারিকে আটক করলেও জামিনে বেরিয়ে এসে তারা আবার জুয়ার আসর বসাচ্ছে। তাদের দাবি, জুয়া ও মাদকের টাকা জোগাড় করতেই এসব চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটছে।এ বিষয়ে মতলব উত্তর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান বলেন, “জুয়া একটি সামাজিক ব্যাধি। এর বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। তবে শুধু পুলিশের অভিযানই যথেষ্ট নয়, তরুণ সমাজকে এই ব্যাধি থেকে মুক্ত রাখতে সামাজিক সচেতনতা গড়ে তোলাও জরুরি।”