• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ১০ই আশ্বিন ১৪৩৩ রাত ১২:৪৯:৩২ (26-Sep-2026)
  • - ৩৩° সে:
হত্যা মামলায় স্বামী জেলে, ১২ বছর পর জীবিত উদ্ধার স্ত্রী

হত্যা মামলায় স্বামী জেলে, ১২ বছর পর জীবিত উদ্ধার স্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বিহার রাজ্যের রোহতাস জেলায় ২০১৪ সালে নিখোঁজ এক নারীকে মৃত ধরে নিয়ে তাঁর স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির কয়েকজনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করা হয়েছিল। ওই মামলায় স্বামীসহ পরিবারের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে কারাগারেও পাঠানো হয়। তবে ১২ বছর পর সেই নারীকে ঝাড়খণ্ড থেকে জীবিত উদ্ধার করেছে পুলিশ। এতে পুরোনো হত্যা মামলায় নতুন মোড় এসেছে।ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোহতাসের এক গ্রাম থেকে শকুন্তলা দেবী নিখোঁজ হওয়ার পর তাঁর ভাই থানায় অভিযোগ করেন। অভিযোগে বলা হয়, যৌতুকের দাবিতে শ্বশুরবাড়িতে তাঁকে নির্যাতন করা হতো। অভিযোগ দায়েরের দুই দিন পর খান্ডা গ্রামের কাছে একটি খাল থেকে এক অজ্ঞাত নারীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। শকুন্তলার ভাই ও স্থানীয় এক ব্যক্তি মরদেহটি তাঁর বলে শনাক্ত করেন। পরে ময়নাতদন্তের পর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়।এ ঘটনায় শকুন্তলার স্বামী অরুণ মেহতা, শ্বশুর দিলীপ মেহতাসহ পরিবারের কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। অরুণ মেহতাকে কিছু সময় কারাগারেও থাকতে হয়। পরে তিনি জামিনে মুক্তি পান। পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়, মামলাটি ঘিরে তাদের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হয়েছে এবং পারিবারিক সম্পত্তিও বিক্রি করতে হয়েছে।এরপর প্রায় ১২ বছর ধরে শকুন্তলাকে মৃত বলেই ধরে নেওয়া হয়েছিল। সম্প্রতি তাঁর শ্বশুর জানতে পারেন, ঝাড়খণ্ডের গড়ওয়া জেলায় তাঁকে দেখা গেছে। পরিবারের সদস্যরা সেখানে গিয়ে তাঁকে শনাক্ত করার পর বিষয়টি রোহতাস পুলিশকে জানান।পুলিশের তদন্তে ঝাড়খণ্ডের গড়ওয়া জেলার লভারি গ্রাম থেকে শকুন্তলাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়। পুলিশ জানায়, সেখানে তিনি কান্তি দেবী নামে বসবাস করছিলেন। পরে তাঁকে রোহতাসে এনে সাসারামের আদালতে হাজির করা হয়।নারীটির জীবিত ফিরে আসার পর ২০১৪ সালে খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহটির পরিচয় নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। পুলিশ এখন ওই মরদেহটি আসলে কার ছিল এবং কীভাবে সেটিকে শকুন্তলার মরদেহ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল, তা খতিয়ে দেখছে। একই সঙ্গে শকুন্তলার বিরুদ্ধে পুলিশকে বিভ্রান্ত করা, প্রতারণা ও অপরাধমূলক ষড়যন্ত্রের অভিযোগে নতুন আইনি প্রক্রিয়াও শুরু হয়েছে।ফলে ১২ বছর আগের হত্যা মামলাটি এখন নতুন করে তদন্তের মুখে পড়েছে। শকুন্তলার নিখোঁজ হওয়া, খাল থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ এবং তাঁর এত বছর কোথায় ছিলেন—এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে পুলিশ।সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস