চার মাসে ১০ কোটি ব্যারেল জ্বালানি বাজারে ছাড়বে জি-৭
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফেরাতে জরুরি মজুত থেকে আগামী চার মাসে ১০ কোটি ব্যারেল তেল ও জ্বালানি পণ্য বাজারে ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জি-৭। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার (আইইএ) সমন্বয়ে এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। একই সঙ্গে জ্বালানি ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে নতুন কোনো বিধিনিষেধ আরোপ না করার অঙ্গীকার করেছে জোটের সদস্য ও অংশীদাররা।২ অক্টোবর শুক্রবার ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর সভাপতিত্বে জি-৭ নেতাদের জরুরি ভার্চুয়াল বৈঠকের পর এ সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। ম্যাক্রোঁর কার্যালয় থেকে প্রকাশিত যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মজুত থেকে জ্বালানি ছাড়ার কার্যক্রম তাৎক্ষণিকভাবে শুরু হয়ে চার মাস ধরে চলবে।বিবৃতিতে বলা হয়, কর্মসূচির আওতায় প্রথম ২০ দিনের মধ্যেই জি-৭ সদস্য ও অংশীদাররা উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল বাজারে ছাড়বে। প্রয়োজনে পরবর্তী সময়ে আরও ডিজেল মজুত থেকে ছাড়ার বিষয়েও আলোচনা করবে তারা।জি-৭ নেতারা জোটভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে তেল, ডিজেলসহ জ্বালানি ও জ্বালানি পণ্য রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা না দেওয়ার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করেছেন। একই সঙ্গে অন্যান্য উৎপাদনকারী দেশকেও বাজারে চাপ বাড়াতে পারে—এমন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।জ্বালানির মূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগকে অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা জানিয়ে নেতারা বলেছেন, তারা বাজার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করবেন। প্রয়োজন হলে জ্বালানি সরবরাহ ও বাজার স্থিতিশীল রাখতে সমন্বিতভাবে আরও পদক্ষেপ নেওয়া হবে।বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মেরৎস, কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি, ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি এবং ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডার লেয়েনসহ জি-৭ ও অংশীদারদের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার নির্বাহী পরিচালক ফাতিহ বিরলও বৈঠকে অংশ নেন।এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেশটির ডিজেল রপ্তানি সীমিত বা বন্ধ করার সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছিল। এতে ইউরোপের জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। জ্বালানি বাজারে চলমান চাপের মধ্যে জি-৭-এর এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের প্রভাবে বিশেষ করে ডিজেল সরবরাহে চাপ অব্যাহত রয়েছে। অপরিশোধিত তেলের সরবরাহ কিছুটা পুনরুদ্ধার হলেও পরিশোধিত জ্বালানি পণ্যের সরবরাহ এখনো সংকুচিত।সূত্র: আল জাজিরা