• ঢাকা
  • |
  • মঙ্গলবার ২৭শে শ্রাবণ ১৪৩৩ সকাল ১০:১৯:৫৭ (11-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:
কিউবার পরিণতি হতে পারে ইরানের মতো: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

কিউবার পরিণতি হতে পারে ইরানের মতো: মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কিউবার বর্তমান সরকার উৎখাত হলে দেশটির পরিস্থিতি ভেনিজুয়েলার চেয়ে বরং ইরানের মতো জটিল হয়ে উঠতে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। মার্কিন প্রশাসন কিউবার ওপর চাপ বাড়ানোর পাশাপাশি দেশটির সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়েও পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।‘দ্য নিউইয়র্ক টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে গোয়েন্দা প্রতিবেদন সম্পর্কে অবহিত কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, কিউবার পরিস্থিতি ভেনিজুয়েলার মতো নয় বলে মনে করছে মার্কিন গোয়েন্দারা। দেশটির দীর্ঘদিনের বিপ্লবী শাসনব্যবস্থার কারণে ক্ষমতার পরিবর্তন হলে কট্টরপন্থি কোনো গোষ্ঠী ক্ষমতায় আসতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে।প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিউবা নিয়ে গোপনে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা সিআইএ। এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কিউবা-সংক্রান্ত নীতির অংশ হিসেবে সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।তবে কিউবার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা সরাসরি সরকার পরিবর্তনের চেয়ে বিদ্যমান শাসনব্যবস্থায় সংস্কার আনার দিকে বেশি কেন্দ্রীভূত হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে ইরান নিয়েও যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল একই ধরনের সম্ভাব্য পরিকল্পনা করেছিল বলে দাবি করা হয়েছে।এদিকে ভেনিজুয়েলায় প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত ও আটক করার পর দেলসি রদ্রিগেজ ক্ষমতা গ্রহণের যে মডেল তৈরি হয়েছিল, কিউবায় তেমন কোনো বিকল্প নেতৃত্ব খুঁজে পাওয়া কঠিন বলে মনে করছেন মার্কিন কর্মকর্তারা।কিউবার নেতৃত্বে কাকে দেখতে চায় ওয়াশিংটন, তা এখনো স্পষ্ট নয়। দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ কয়েকজন ব্যক্তির নাম সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচনায় থাকলেও তারা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে কতটা গ্রহণযোগ্য হবেন, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, কিউবার ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধের কারণে দেশটির জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ বিভ্রাট, খাদ্যসংকট ও অর্থনৈতিক সংকট আরও তীব্র হয়েছে। পুরোনো বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহও কমে গেছে।কিউবায় সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দেশটির বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর ভেতর থেকেই কোনো উত্তরসূরি উঠে আসতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট রাউল কাস্ত্রোর পরিবারের কয়েকজন সদস্যের নাম এ ক্ষেত্রে আলোচনায় রয়েছে।যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার পরিচালক জন র‍্যাটক্লিফ চলতি বছরের শুরুতে কিউবা সফর করে দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সম্ভাব্য উত্তরসূরি হিসেবে আলোচিত ব্যক্তিরাও রয়েছেন।লন্ডনের চ্যাথাম হাউসের লাতিন আমেরিকা কর্মসূচির পরিচালক ক্রিস সাবাতিনির মতে, কিউবার পরিস্থিতি ইরানের কাছাকাছি হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। তার ভাষ্য, কিউবা ও ইরান উভয় দেশেই দীর্ঘদিন ধরে বিপ্লবী শাসনব্যবস্থা টিকে আছে এবং ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর মধ্যে আদর্শগত ঐক্য রয়েছে।অন্যদিকে ভেনিজুয়েলার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাঠামো কিউবা বা ইরানের তুলনায় ভিন্ন। তাই কিউবায় যুক্তরাষ্ট্রের পছন্দ অনুযায়ী নতুন নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করা সহজ হবে না বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা।এদিকে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক হস্তক্ষেপ করলে কিউবার জনগণ প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলে সতর্ক করেছেন যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত কিউবার রাষ্ট্রদূত ইসমারা মার্সেদেস ভার্গাস ওয়াল্টার। তিনি বলেছেন, এমন পরিস্থিতিতে কিউবা ভয়াবহ ধ্বংসের মুখে পড়লেও জনগণ নিজেদের রক্ষায় লড়াই করবে।সব মিলিয়ে, কিউবার ওপর মার্কিন চাপ বাড়ার মধ্যে দেশটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব ও সম্ভাব্য রাজনৈতিক পরিবর্তন নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে কিউবায় ওয়াশিংটনের পছন্দের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা কতটা সম্ভব হবে, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।সূত্র: দ্য নিউইয়র্ক টাইমস