জামালপুরে মুক্তিযোদ্ধার জানাজায় গার্ড অব অনার দিতে পারেনি প্রশাসন
জামালপুর প্রতিনিধি: জামালপুরের বকশীগঞ্জে বীর মুক্তিযোদ্ধা দেলোয়ার হোসেনের জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একদল মুক্তিযোদ্ধা তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে প্রশাসনের গাড়ি আটকে দেন বলে জানা গেছে। পরে গার্ড অব অনার না দিয়েই প্রশাসনের কর্মকর্তারা ফিরে আসেন। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ছাড়াই দেলোয়ার হোসেনের দাফন সম্পন্ন হয়।৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার দিবাগত রাতে ঢাকার একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান দেলোয়ার হোসেন। ১ অক্টোবর বৃহস্পতিবার বাদ আসর বকশীগঞ্জ উপজেলার সাধুরপাড়া ইউনিয়নের মদনেরচর গ্রামে তাঁর জানাজার সময় নির্ধারণ করা হয়।জানাজার আগে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনাকে ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়। পথে মুক্তিযোদ্ধা নওশেদ আলীর নেতৃত্বে কয়েকজন ব্যক্তি প্রশাসনের গাড়ি আটকে দেন। তাঁরা দেলোয়ার হোসেনকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে গার্ড অব অনার না দেওয়ার জন্য বাধা দেন এবং বিভিন্ন স্লোগান দেন।পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার আশঙ্কায় প্রশাসনের কর্মকর্তারা গার্ড অব অনার না দিয়েই ফিরে আসেন। পরে স্থানীয়ভাবে জানাজা শেষে দেলোয়ার হোসেনকে দাফন করা হয়।তবে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, দেলোয়ার হোসেনের নামে সরকারি মুক্তিযোদ্ধা গেজেট রয়েছে। তিনি সরকারি মুক্তিযোদ্ধা ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধাও পেয়ে আসছিলেন।দেলোয়ার হোসেনের ছেলে মো. মমিনুর রহমান স্বপন বলেন, তাঁর বাবা সরকারি গেজেটভুক্ত মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। তাঁকে ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ দাবি করে এর আগে একটি পক্ষ হাইকোর্টে রিট করেছিল। পরে আদালতের রায়ে তিনি মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বহাল থাকেন। পূর্বশত্রুতার জের ধরে নওশেদ আলী ও তাঁর সহযোগীরা এ ঘটনা ঘটিয়েছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।অভিযোগের বিষয়ে নওশেদ আলী বলেন, দেলোয়ার হোসেন ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’। মুক্তিযুদ্ধের সময় তাঁকে কোনো ধরনের যুদ্ধ বা সহযোগিতায় দেখা যায়নি দাবি করে তিনি বলেন, এ কারণেই তাঁরা গার্ড অব অনার প্রদানে বাধা দিয়েছেন।সরকারি গেজেটের বিষয়ে নওশেদ আলী বলেন, পরবর্তীতে হাইকোর্টের মাধ্যমে দেলোয়ার হোসেনের পক্ষে গেজেট হওয়ার বিষয়টি উপজেলা বা জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডকে জানানো হয়নি। এ উপজেলায় আরও কয়েকজন ‘ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা’ রয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।বকশীগঞ্জ উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আসমা উল হুসনা বলেন, দেলোয়ার হোসেনের জানাজায় গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে কর্মকর্তাদের পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধা বাধা দেওয়ায় তা সম্ভব হয়নি।উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মুরাদ হোসেন বলেন, দেলোয়ার হোসেনের নামে সরকারি মুক্তিযোদ্ধা গেজেট রয়েছে। সেই ভিত্তিতেই তাঁর জানাজায় গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য সহকারী কমিশনার (ভূমি)কে পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু মুক্তিযোদ্ধাদের একটি পক্ষ প্রশাসনের গাড়ি আটকে বাধা দেয়।