ধর্ষণের ১১ অভিযোগ প্রমাণের পরও সাজা হলো না তিন কিশোরের
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাজ্যে দুই কিশোরীকে ধর্ষণকারী তিন কিশোর ১১টি অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পরও সাজা না দিয়ে অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে আদালত। রায় দেয়ার সময় বিচারক তাদের উদ্দেশে বলেন, ‘তোমাদের কারোরই আজ কারাগারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।’ বিচারকের এই ‘বিতর্কিত’ রায় নিয়ে দেশটিতে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম মেট্রো’র প্রতিবেদনে বলা হয়, অপরাধের সময় ধর্ষকদের বয়স ছিল ১৩ ও ১৪ বছর। তারা আতঙ্কিত ভুক্তভোগীদের ওপর দলবদ্ধভাবে চড়াও হয়ে হাসাহাসি করছিল এবং একে অপরকে উসকানি দিচ্ছিল। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার ভিডিও নিজেদের ফোনে ধারণ করেছিল তারা।সাউদাম্পটন ক্রাউন কোর্টের বিচারক নিকোলাস রোল্যান্ড রায়ে বলেন, অভিযুক্তরা কমবয়সী এবং তাদের পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া উচিত। তিনি মন্তব্য করেন, ‘তোমাদের কারোরই আজ কারাগারে যাওয়ার প্রয়োজন নেই।’আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, দোষী সাব্যস্ত তিন কিশোরের মধ্যে দুজন মনোযোগজনিত মানসিক সমস্যায় ভুগছে। বিচারক মনে করেন, তাদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত না করে সমাজে পুনর্বাসনের দিকেই গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।রায়ে দুই কিশোরকে ১৮ মাস থেকে তিন বছরের যুব পুনর্বাসন কর্মসূচিতে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অন্য কিশোরকে ১৮০ দিন কঠোর নজরদারির আওতায় রাখা হবে।তবে এই রায়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীদের পরিবার ও অধিকারকর্মীরা। ভুক্তভোগীদের একজন আদালতের সিদ্ধান্তের পর বলেন, ‘আমার এখন মরে যেতে ইচ্ছে হচ্ছে।’হ্যাম্পশায়ার ও আইল অব ওয়াইটের পুলিশ ও অপরাধ কমিশনার ডোনা জোনস বলেছেন, ভুক্তভোগীদের পরিবার চাইলে তিনি এই ‘অত্যন্ত নমনীয়’ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে সহায়তা করবেন।তিনি বলেন, ‘এত গুরুতর অপরাধের পরও অভিযুক্তরা কারাগারে যাচ্ছে না—এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। এই রায়ে শাস্তির চেয়ে পুনর্বাসনের দিকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’