• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১২ই শ্রাবণ ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৭:৪১:১০ (27-Jul-2026)
  • - ৩৩° সে:
চীন কেন বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল নিতে চায়?

চীন কেন বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল নিতে চায়?

ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক চীন সফরে বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল রপ্তানির বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এতে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ কাঁঠাল আমদানিকারক চীনের বাজারে বাংলাদেশের প্রবেশের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।বাংলাদেশ থেকে কাঁঠাল আমদানিতে চীনের আগ্রহ অবশ্য নতুন নয়। ২০২৫ সালে বাংলাদেশ থেকে প্রথমবার কাঁচা আম আমদানির সময়ই দেশটি কাঁঠাল ও পেয়ারাসহ অন্যান্য ফল আমদানির আগ্রহ প্রকাশ করেছিল।প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, এবারের সফরে দুই দেশের মধ্যে ১৭টি সমঝোতা স্মারক সই হয়েছে। অবকাঠামো, ডিজিটাল অর্থনীতি ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি কৃষিপণ্য, বিশেষ করে কাঁঠাল রপ্তানিও এর অন্যতম বিষয়।কৃষি অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সমঝোতা শুধু কাঁঠাল নয়, বাংলাদেশের অন্যান্য কৃষিপণ্যের জন্যও চীনের বাজার উন্মুক্ত করার সুযোগ তৈরি করতে পারে। তবে এর জন্য আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখা, আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও উন্নত প্যাকেজিং নিশ্চিত করা জরুরি।বিশ্বের সবচেয়ে বড় কাঁঠাল আমদানিকারক দেশ চীন। তাদের চাহিদার বড় অংশ আসে ভিয়েতনাম ও থাইল্যান্ড থেকে। অন্যদিকে, কাঁঠাল উৎপাদনে বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ দেশ হলেও বৈশ্বিক রপ্তানিতে দেশের অংশ মাত্র ০.৩ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশের কাঁঠালের প্রায় ৮৫ শতাংশ রপ্তানি হয় যুক্তরাজ্য, ইতালি, কানাডা ও ফ্রান্সে।বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী, দেশে বছরে ৮ থেকে ১০ লাখ মেট্রিক টন কাঁঠাল উৎপাদিত হলেও অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও রপ্তানি সীমিত থাকায় প্রায় ৪৫ শতাংশ কাঁঠাল নষ্ট হয়ে যায়। গবেষকরা ইতোমধ্যে কাঁঠাল দিয়ে চিপস, আচার, জেলি, আইসক্রিম, কেক, ভেজিটেবল মিটসহ নানা ধরনের মূল্য সংযোজন পণ্য উদ্ভাবন করেছেন।বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. মোহাম্মদ আমিরুল ইসলাম বলেন, দেশের কৃষিপণ্য রপ্তানি এখনও মূলত প্রবাসী বা এথনিক বাজারকেন্দ্রিক। আন্তর্জাতিক বাজারে প্রবেশ করতে হলে মান নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ উৎপাদনের ওপর আরও জোর দিতে হবে।অন্যদিকে, বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-বেজড প্রোডাক্ট প্রডিউসারস অ্যান্ড মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ রুহুল আমিনের মতে, কাঁঠাল সংরক্ষণ, প্রক্রিয়াজাতকরণ ও পরিবহন এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। তবে চীন যদি প্রযুক্তিগত সহায়তা ও বিনিয়োগ করে, তাহলে এই খাত দ্রুত বিকশিত হতে পারে।বিশেষজ্ঞদের মতে, চীনের সঙ্গে কাঁঠাল রপ্তানির সমঝোতা বাংলাদেশের কৃষিপণ্য রপ্তানিতে নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে। তবে সেই সুযোগ কাজে লাগাতে আন্তর্জাতিক মান নিশ্চিত করা, প্রক্রিয়াজাত শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানো এবং দেশের অভ্যন্তরীণ চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখা প্রয়োজন।সূত্র: বিবিসি বাংলা