বাণিজ্য সচিব মাহবুবুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন
নিজস্ব প্রতিবেদক: বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৮ বছর।আজ ১৭ এপ্রিল শুক্রবার ভোর ৬টা ২৫ মিনিটে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন।এ তথ্য নিশ্চিত করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রক্তের প্লাটিলেট কমে যাওয়ায় গত ১৩ এপ্রিল তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। পরবর্তীতে তার শরীরে ম্যালেরিয়া শনাক্ত হয়।চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে।ব্যক্তিজীবনে মাহবুবুর রহমান পিরোজপুর জেলার মঠবাড়িয়া উপজেলার এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক কন্যা সন্তানসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী রেখে গেছেন।মাহবুবুর রহমান ২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে যোগদান করেন। এর আগে তিনি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের অতিরিক্ত সচিব (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।এর আগে তিনি ১৯৯৪ সালের এপ্রিলে ১৩তম বিসিএস (কাস্টমস ও এক্সাইজ) ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের অধীন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে সহকারী কমিশনার পদে যোগদান করেন। ২০১০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন কাস্টম হাউস, কাস্টমস এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডে উপ-কমিশনার, যুগ্ম কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনার হিসেবে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করেন।শিক্ষাজীবনে তিনি পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ার কে.এম. লতিফ ইনস্টিটিউশন থেকে মাধ্যমিক এবং ঢাকা কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগ থেকে স্নাতক (সম্মান) ডিগ্রি অর্জন করেন। তিনি একই বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় প্রশাসন ইনস্টিটিউট (আইবিএ) থেকে এমবিএ এবং পরবর্তী সময়ে চীনের ‘চায়না ফরেন অ্যাফেয়ার্স ইউনিভার্সিটি’ থেকে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে আরও একটি স্নাতকোত্তর ডিগ্রি লাভ করেন।তিনি দেশে এবং বিদেশে কাস্টমস পদ্ধতি, মূল্যায়ন ও অভ্যন্তরীণ নিরীক্ষা, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা, কাস্টমস গোয়েন্দা তথ্য, প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, নেগোসিয়েশন স্কিলস এবং সরকারি অর্থায়নসহ সক্ষমতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। দাপ্তরিক প্রয়োজনে তিনি বিশ্বের প্রায় সব দেশ ভ্রমণ করেছেন।