পিরোজপুরের নেছারাবাদে বৃদ্ধের গলিত মরদেহ উদ্ধার
পিরোজপুর প্রতিনিধি: পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলায় একটি বাগান থেকে শাহ আলম (৭০) নামের এক কাঠ ব্যবসায়ীর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।১৫ আগস্ট শনিবার সকালে নান্দুহার-ইলুহার মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়সংলগ্ন বাগান থেকে থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত শাহ আলম নান্দুহার এলাকার বাসিন্দা।স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, গত শনিবার থেকে শাহ আলমকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। তবে তাঁর নিখোঁজের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে থানায় কোনো সাধারণ ডায়েরি বা লিখিত অভিযোগ করা হয়নি। আজ শনিবার সকালে ওই এলাকার একটি বাগানসংলগ্ন ডোবা থেকে দুর্গন্ধ ছড়ালে স্থানীয় লোকজন খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে তাঁরা মরদেহটি দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। পরে নেছারাবাদ থানা-পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, শাহ আলম গাছ ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। গাছ কাটার কাজে গিয়ে এলোমেলোভাবে ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারে সংযুক্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তাঁদের অভিযোগ, ওই এলাকায় বিদ্যুতের তার ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঝুলছিল। তবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়েই তাঁর মৃত্যু হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।নিহতের পরিবারের সদস্যরা জানান, গত শনিবার থেকে শাহ আলমকে পাওয়া যাচ্ছিল না। তাঁরা আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ করছিলেন। তবে থানায় কোনো অভিযোগ করেননি। কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়েও তাঁরা নিশ্চিত নন।নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, গত শনিবার থেকে শাহ আলম নিখোঁজ ছিলেন। এ সময় তাঁর পরিবার বা আত্মীয়স্বজনের পক্ষ থেকে থানায় কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ করা হলে পুলিশ তাঁকে খুঁজে বের করার উদ্যোগ নিতে পারত। তিনি বলেন, ‘কীভাবে তাঁর মৃত্যু হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না।’নেছারাবাদ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ডিজিএম জানে আলম বলেন, ওই এলাকায় বিদ্যুতের তার ঝুলে থাকা বা অরক্ষিত অবস্থায় থাকার বিষয়ে তাঁদের দপ্তরে কোনো অভিযোগ আসেনি। শাহ আলম বিদ্যুতের তারে সংযুক্ত হয়ে মারা গেছেন কি না, বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে এ মুহূর্তে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাঁর মৃত্যু হয়েছে এমনটি নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না।পুলিশ জানায়, মরদেহ উদ্ধারের পর ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।