রাঙামাটি প্রতিনিধি: দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম বৃহৎ কৃত্রিম জলাধার কাপ্তাই হ্রদ। পাহাড়, জল আর সবুজের অপূর্ব সমন্বয়ে গড়ে ওঠা রাঙামাটি দেশের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র। বর্ষা মৌসুমে হ্রদের পানির বিস্তৃতি ও পাহাড়ের নৈসর্গিক সৌন্দর্য পর্যটকদের আকর্ষণ আরও বাড়িয়ে দেয়। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকেরা আসছেন, ভিড় করছেন বোট, হাউজবোট ও বিভিন্ন পর্যটন স্পটে।
তবে পর্যটনের এই ব্যস্ততার আড়ালে নতুন করে সামনে এসেছে উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও শব্দদূষণের অভিযোগ। কাপ্তাই হ্রদে চলাচলকারী কিছু বোটে উচ্চস্বরে গান, বাদ্যযন্ত্র, নাচ-গান এবং নানা ধরনের উচ্ছৃঙ্খল কর্মকাণ্ডে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন হ্রদের আশপাশের বসতবাড়ির বাসিন্দারা। বিশেষ করে শিশু, শিক্ষার্থী, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষকে এ ধরনের উচ্চ শব্দের কারণে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, পর্যটকদের আনন্দ-উচ্ছ্বাসে আপত্তি নেই। কিন্তু সেই আনন্দ যেন অন্যের স্বাভাবিক জীবনযাপন, পড়াশোনা, চিকিৎসা কিংবা ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বিঘ্ন সৃষ্টি না করে, এটাই তাদের দাবি।
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের সদস্য মোহাম্মদ হাবিব আজম বলেন, রাঙামাটিতে পর্যটকেরা আসবেন, আনন্দ করবেন; এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বর্তমানে উচ্চস্বরে গান-বাজনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের কাছ থেকে নিয়মিতই অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি বলেন, বিশেষ করে যেসব বসতঘর কাপ্তাই হ্রদের আশপাশে রয়েছে, উচ্চস্বরে গান-বাজনার কারণে সেসব পরিবারের শিশু ও শিক্ষার্থীরা সমস্যায় পড়ছে। বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিদেরও দুর্ভোগ হচ্ছে।
এদিকে বিষয়টি নিয়ে অভিযান পরিচালনার কথা জানিয়েছেন রাঙামাটি পুলিশ সুপার মুহম্মদ আব্দুর রকিব। তিনি বলেন, শীতের মৌসুমের পাশাপাশি বর্ষা মৌসুমেও রাঙামাটির বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রে পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে। বিশেষ করে কাপ্তাই হ্রদের নৈসর্গিক সৌন্দর্য ও বিভিন্ন ঝরনা পর্যটকদের আকর্ষণ করছে।
পুলিশ সুপার বলেন, ‘কাপ্তাই লেকে ভ্রমণের সময় কিছু উচ্ছৃঙ্খল যুবক বিশেষ করে হাউজবোটে উচ্চস্বরে বাদ্যযন্ত্র বাজাচ্ছে, বিভিন্ন ধরনের নাচ-গান করছে; এমন অভিযোগ আমরা পাচ্ছি। এসব কর্মকাণ্ডের কারণে জনদুর্ভোগ ও পাবলিক ডিসঅর্ডার সৃষ্টি হলে তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া হবে না।”
তিনি জানান, এসব অভিযোগের পর জেলা প্রশাসন ও ফায়ার সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উচ্চস্বরে গান-বাজনা কিংবা জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করে এমন কর্মকাণ্ডে যারা জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
কাপ্তাই হ্রদে পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদেরও এ বিষয়ে দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন রাঙামাটি ট্যুরিস্ট বোট মালিক সমিতির সভাপতি রমজান হোসেন। তিনি বলেন, বোট মালিক সমিতির পক্ষ থেকে নিয়মিত সদস্যদের সতর্ক করা হয়। তবে কিছু বোট বেশি ভাড়ার আশায় উচ্চস্বরে সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে।
কাপ্তাই হ্রদে উচ্চস্বরে গান-বাজনা ও পর্যটকদের কিছু কর্মকাণ্ড নিয়ে অভিযোগের বিষয়টি ইতোমধ্যে প্রশাসনের নজরেও এসেছে। ৯ আগস্ট রোববার রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত জেলা আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায়ও বিষয়টি উত্থাপিত হয়। সভায় কাপ্তাই হ্রদে পর্যটকদের নিরাপত্তা, উচ্চস্বরে গান-বাজনা, জনদুর্ভোগ এবং পর্যটনকেন্দ্রিক শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রশাসনের সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পর্যটন বিকাশের সঙ্গে স্থানীয় মানুষের জীবনযাত্রার ভারসাম্য রক্ষা করাও জরুরি। পর্যটকদের আনন্দের নামে যেন কোনোভাবেই স্থানীয় বাসিন্দাদের দুর্ভোগ সৃষ্টি না হয়, সে বিষয়ে নজরদারি বাড়ানো হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available