• ঢাকা
  • |
  • বৃহঃস্পতিবার ২৩শে আশ্বিন ১৪৩৩ দুপুর ০১:২৬:২৫ (08-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

কক্সবাজারে ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে তিন মাসের পর্যটন কার্নিভাল

৮ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২:০৬:৪৮

কক্সবাজারে ১ নভেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে তিন মাসের পর্যটন কার্নিভাল

ডেস্ক রিপোর্ট: দেশের প্রধান পর্যটন গন্তব্য কক্সবাজারে প্রথমবারের মতো শুরু হতে যাচ্ছে তিন মাসব্যাপী ‘কক্সবাজার পর্যটন কার্নিভাল ২০২৬’। আগামী ১ নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত হোটেল শৈবালের সমুদ্রসৈকত ও ঝাউবনসংলগ্ন বিস্তৃত প্রাঙ্গণে এ আয়োজন চলবে।

বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের উদ্যোগে এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের পরিচালনায় আয়োজিত এ কার্নিভালে দিন ও রাতে পর্যটকদের জন্য থাকছে খাবার, খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, অ্যাডভেঞ্চার ও পারিবারিক বিনোদনসহ নানা আয়োজন।

৭ অক্টোবর বুধবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবনে আয়োজিত এক মিডিয়া ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান।

ব্রিফিংয়ে জানানো হয়, প্রতিবছর কক্সবাজারে দেশি পর্যটকের সংখ্যা বাড়লেও বিদেশি পর্যটক বৃদ্ধির হার আশানুরূপ নয়। পর্যটকদের অন্যতম অভিযোগ, সমুদ্রসৈকত উপভোগের পর বিশেষ করে সন্ধ্যার পর বিনোদনের সুযোগ সীমিত। এ বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দিন-রাতের নানা আয়োজন নিয়ে প্রথমবারের মতো তিন মাসব্যাপী এ কার্নিভালের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কার্নিভালে থাকছে খাবার অঞ্চল, বাজার ও কারুশিল্প গ্রাম, সুস্থতা অঞ্চল, শিশু অঞ্চল এবং ক্যাম্পিং অঞ্চল। খাবার অঞ্চলে দেশি-বিদেশি খাবার, সরাসরি রান্নার আয়োজন, বারবিকিউ, আইসক্রিম ও জুসের ব্যবস্থা থাকবে।

বাজার ও কারুশিল্প গ্রামে পোশাক, অলংকার, মাটির পণ্যসহ স্থানীয় কারিগরদের তৈরি বিভিন্ন শিল্পপণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করা হবে। সুস্থতা অঞ্চলে সূর্যোদয়ের সময় যোগব্যায়াম ও ধ্যানের আয়োজন থাকবে। শিশুদের জন্য থাকবে শিল্পচর্চা, নিরাপদ রাইডসহ বিভিন্ন বিনোদনমূলক কার্যক্রম।

ক্যাম্পিং অঞ্চলে রাতযাপন, খোলা আকাশের নিচে পাঠাগার, নিজে বারবিকিউ করার সুযোগ, দোলনা, ক্যাম্পফায়ার এবং দূরবীনে তারাভরা আকাশ দেখার ব্যবস্থা থাকবে।

এ ছাড়া কার্নিভালে থাকবে চিত্রশিল্প ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, খোলা আকাশের নিচে চলচ্চিত্র প্রদর্শন, ভার্চুয়াল বাস্তবতা অঞ্চল, সার্কাস তাঁবু, কায়াকিং, সরাসরি সঙ্গীত পরিবেশনা, গো-কার্ট, সৈকত ফুটবল, হ্যান্ডবল, ভলিবল, কাবাডি, ব্যাডমিন্টন ও বালুর ভাস্কর্য তৈরির আয়োজন।

বিজয় দিবস, বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উপলক্ষে থাকবে বিশেষ আয়োজন। পাশাপাশি সমুদ্রের সামনে সূর্যাস্তের আবহে বিচ ভিউ উন্মুক্ত মঞ্চে ‘ওয়েভ অব মিউজিক’ শীর্ষক সংগীতানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে।

ব্রিফিংয়ে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের পরিচালক (অতিরিক্ত সচিব) মো. গনী উল আজম। তিনি বলেন, শুধু একটি কার্নিভাল আয়োজন নয়, এর মাধ্যমে কক্সবাজারের পর্যটন অভিজ্ঞতায় নতুন মাত্রা যুক্ত করতে চায় বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশন।

তিনি বলেন, সমুদ্র, সূর্যাস্ত ও ঝাউবনের সঙ্গে খাবার, সংগীত, খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা, অ্যাডভেঞ্চার ও পারিবারিক বিনোদন যুক্ত করে কক্সবাজারকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলা হবে।

কার্নিভাল বাস্তবায়নকারী প্রতিষ্ঠান স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশনস লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাদেকুল আরেফিন উপস্থাপনার মাধ্যমে আয়োজনের বিস্তারিত পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামান বলেন, কক্সবাজারকে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে আরও বৈচিত্র্যময় ও আকর্ষণীয়ভাবে তুলে ধরতেই এ কার্নিভালের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, বিশেষ করে বিদেশি পর্যটকদের কাছে কক্সবাজারকে নতুন ও ব্যতিক্রমীভাবে উপস্থাপনের মাধ্যমে তাদের সংখ্যা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে। একই সঙ্গে এ আয়োজনের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

চেয়ারম্যান আরও বলেন, কক্সবাজারকে প্রাণবন্ত, বৈচিত্র্যময়, নিরাপদ, টেকসই ও আন্তর্জাতিক মানের পর্যটন গন্তব্য হিসেবে নতুনভাবে তুলে ধরতেই এ কার্নিভালের আয়োজন করা হচ্ছে।

মিডিয়া ব্রিফিংয়ে বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং স্পেলবাউন্ড কমিউনিকেশস লিমিটেডের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ