স্পোর্টস ডেস্ক: ইউরোপীয় ফুটবলের মহাকাব্যিক লড়াইয়ে দীর্ঘ ১৪ বছর পর অবশেষে রিয়াল মাদ্রিদকে হারানোর স্বাদ পেল বায়ার্ন মিউনিখ। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে চ্যাম্পিয়নস লিগের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্বের প্রথম লেগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে রিয়ালকে ২-১ গোলে স্তব্ধ করে দিয়েছে জার্মান জায়ান্টরা। ২০১১-১২ মৌসুমের পর রিয়ালের বিপক্ষে বাভারিয়ানদের এটিই প্রথম জয়, যা ফুটবল বিশ্বে নতুন করে বায়ার্ন-গর্জনের জানান দিচ্ছে।
ম্যাচের শুরু থেকেই বল দখল আর আক্রমণের লড়াই ছিল সমানে সমান। ৪৮ শতাংশ বল রিয়ালের পায়ে থাকলেও গোলপোস্টে শট নেওয়ার দৌড়ে তারাই ছিল এগিয়ে। রিয়াল ৩১টি শট নিলেও বায়ার্নের রক্ষণভাগ আর গোলরক্ষক ম্যানুয়েল নয়ারের দেয়াল ভেদ করে গোল এসেছে মাত্র একটি। অন্যদিকে, ৫২ শতাংশ বল দখলে রাখা বায়ার্ন ২৩টি শটের মধ্যে মাত্র ৪টি লক্ষ্যে রেখেই ছিনিয়ে নিয়েছে মহার্ঘ্য দুটি গোল।


গোলের ডেডলক ভাঙে ম্যাচের ৪১তম মিনিটে। লিভারপুলের সাবেক দুই সতীর্থ সার্জে গ্যানাব্রি ও লুইস দিয়াজের দারুণ রসায়নে এগিয়ে যায় বায়ার্ন। গ্যানাব্রির নিখুঁত পাস থেকে লক্ষ্যভেদ করেন দিয়াজ। বিরতির ঠিক পরেই বায়ার্নের জয় একপ্রকার নিশ্চিত করে ফেলেন ফর্মের তুঙ্গে থাকা ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেন। মাইকেল অলিসের ব্যাক-পাস থেকে পাওয়া বলে বক্সের কোণা থেকে দুর্দান্ত এক ফিনিশিংয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন তিনি। এটি চলতি মৌসুমে কেনের ৪৯তম এবং চ্যাম্পিয়নস লিগে ১১তম গোল।

দুই গোল হজম করে রিয়াল মাদ্রিদ মরিয়া হয়ে উঠলে বারবার ত্রাতা হয়ে দাঁড়ান অভিজ্ঞ নয়ার। এমবাপ্পে ও ভিনিসিয়ুসের একের পর এক নিশ্চিত গোল নসাৎ করে দেন তিনি। তবে ৭৪তম মিনিটে আলেকজান্ডার-আর্নল্ডের ক্রসে কিলিয়ান এমবাপ্পে এক গোল শোধ করলে ম্যাচে উত্তেজনার পারদ চরমে ওঠে। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হয়নি রিয়ালের।
ইনজুরি কাটিয়ে পুরো ম্যাচ দাপিয়ে বেড়ানো হ্যারি কেন ম্যাচ শেষে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, আজকের জয়টা আমাদের জন্য দারুণ ছিল। ফিনিশিংয়ে আমরা আরও একটু ভালো করতে পারতাম ঠিকই, তবে এই জয় আমাদের অনেক আত্মবিশ্বাস জোগাবে।
১৪ বছরের খরা কাটিয়ে বায়ার্নের এই জয় কি তবে তাদের চ্যাম্পিয়নস লিগের মুকুটের দিকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে গেল? উত্তরটা মিলবে ফিরতি লেগেই।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available