ক্রীড়া ডেস্ক: সোনালী সাফল্যের স্বপ্ন বুনে জাপানে পা রাখা বাংলাদেশ পুরুষ দল শেষ পর্যন্ত ব্রোঞ্জের লড়াইয়েও শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে খেই হারিয়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে। টুর্নামেন্টজুড়ে ছন্নছাড়া ব্যাটিংয়ের খেসারত দিয়ে যখন পদকহীনতার লজ্জা নিয়ে ফিরতে হচ্ছে দলকে, তখন সমালোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে দলপতি লিটন দাস।
সেমিফাইনালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ২ রান করার পর ব্রোঞ্জ নির্ধারণী ম্যাচেও শূন্য রানে ফেরা লিটনকে নিয়ে ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে যখন অধিনায়কত্ব ছাড়ার প্রশ্ন উঠল, তখন বেশ সোজাসাপ্টাভাবেই তার জবাব দেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। বাজে পারফরম্যান্সের কারণে পদত্যাগ করার কোনো যৌক্তিকতা নেই বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছেন তিনি।
নিজের ফর্মহীনতা ও পদত্যাগের বিষয় নিয়ে লিটন সোজাসাপ্টা ভাষায় বলেন, ‘আমার পারফরম্যান্স আপ টু দ্য মার্ক ছিল না। আমি দুটো ম্যাচে খারাপ খেলেছি। ক্রিকেটে আপস এন্ড ডাউন থাকেই। একদিন ভালো হবে আর একদিন খারাপ হবে। এই জন্য অধিনায়ক থেকে পদত্যাগ করার মতো কি আছে। আমি পদত্যাগ করছি না।’
জাপানের নিশিনে কোরোগি স্পোর্টস পার্কে শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৬৫ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই বিপর্যয়ে পড়ে বাংলাদেশ। আগের ম্যাচে পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ২ রান করে ফেরার পর, এদিন লঙ্কান পেসার নুয়ান তুশারার বলে খাতা খোলার আগেই সাজঘরে ফেরেন লিটন। তার সঙ্গে টপ অর্ডারের অন্য ব্যাটারদের আসা-যাওয়ার মিছিলে শেষ পর্যন্ত ১০২ রানে গুটিয়ে যায় দল। এশিয়ান গেমসের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো পদক ছাড়াই আসর শেষ করতে হলো লাল-সবুজদের।
টুর্নামেন্টের সামগ্রিক লক্ষ্য ও পদক হাতছাড়া হওয়া নিয়ে বাংলাদেশের অধিনায়ক আরও বলেন, ‘ব্রোঞ্জ জিততে না পারায় খারাপ লাগছে। এখানে ফাইনালের লক্ষ্য নিয়ে এসেছিলাম। সেটা যখন হয়নি, তারপর আরেকটা অপশন ছিল। সুযোগটা আমরা মিস করেছি।’
এদিকে দলের পারফরম্যান্স, বোলিংয়ের সূচনা এবং লঙ্কান ব্যাটারদের ইনিংস নিয়ে মূল্যায়ন করতে গিয়ে তিনি যোগ করেন, ‘আমরা বাজে ক্রিকেট খেলেছি। আমার কাছে মনে হয়েছে আমরা প্রথম ৮ ওভার ভালো বোলিং করেছি। এরপর সবাই দেখেছেন একটা ব্যাটসম্যান (রত্নায়েকে) এসে যেরকম শট খেলেছেন কঠিন উইকেটে। তিনি অবিশ্বাস্য ব্যাটিং করেছে। বোলাররা কোনো ক্লু খুঁজে পায়নি এখান থেকে কীভাবে কামব্যাক করবে। অসাধারণ ইনিংস খেলার জন্য তাকে কৃতিত্ব দিতেই হয়।’
ব্যক্তিগত ও দলীয় ব্যর্থতার পাহাড় জমে থাকলেও লিটনের এই অনড় অবস্থান বুঝিয়ে দিচ্ছে, কঠিন সময়ে দায়িত্ব থেকে পিছু হটতে নারাজ তিনি। এখন দেখার বিষয়, মাঠের এই হতাশা কাটিয়ে ভবিষ্যতে দল কীভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।
টি-টোয়েন্টিতে অধিনায়ক হিসেবে লিটনের অর্জনের খাতাটা ফিফটি-ফিফটি। এখন পর্যন্ত এই উইকেটরক্ষক ব্যাটার নেতৃত্ব দিয়েছেন ৩৩ ম্যাচে। যেখানে বাংলাদেশ জিতেছে ১৬টি ম্যাচে এবং হারের সংখ্যাটাও সমান ১৬; একটি ম্যাচ হয়েছে পরিত্যক্ত। তবে নেতৃত্বে কেমন করছেন তা নিয়ে সেভাবে বড় প্রশ্ন না এলেও মূলত প্রশ্নটা তার ব্যাটিংয়ের ছন্নছাড়া পারফর্ম নিয়েই।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available