আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের পবিত্র নগরী মক্কায় আজ থেকে শুরু হচ্ছে পবিত্র হজের আনুষ্ঠানিকতা। ইসলামের পঞ্চম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচিত হজ বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় সমাবেশ। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লাখো মুসলমান হজ পালনের উদ্দেশ্যে মক্কায় সমবেত হন।
কালেমা, নামাজ, জাকাত ও রোজার পর হজ ইসলামের পঞ্চম ও সর্বশেষ স্তম্ভ। আরবি শব্দ ‘হজ’ এসেছে ‘হ-জ-জ’ মূলধাতু থেকে, যার অর্থ কোনো নির্দিষ্ট উদ্দেশ্যে যাত্রা করা। শারীরিক ও আর্থিকভাবে সক্ষম প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের জন্য জীবনে একবার হজ পালন ফরজ।
আরবি বর্ষপঞ্জির শেষ মাস জিলহজের ৮ তারিখে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়ে ১২ জিলহজ পর্যন্ত চলে। ইসলামী বিশ্বাস অনুযায়ী, এটি আল্লাহর নির্দেশিত একটি ইবাদত। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) ১০ হিজরিতে বিদায় হজ পালন করেন।
হজ পালনের মাধ্যমে মুসলমানরা আল্লাহর কাছে গুনাহ মাফের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে ইহকাল ও পরকালের কল্যাণ কামনা করেন।
হজের আনুষ্ঠানিকতার প্রথম দিন : মিনা যাত্রা ও ইহরাম
হজের নিয়ত করার পর হাজিরা ইহরাম পরিধান করেন। পুরুষরা দুটি সাদা কাপড় এবং নারীরা শালীন পোশাক পরেন। ইহরাম মুসলমানদের সমতা, নম্রতা ও ঐক্যের প্রতীক।
এরপর হাজিরা কাবা শরিফে আগমনী তাওয়াফ বা তাওয়াফে কুদুম আদায় করেন। এ সময় তারা ঘড়ির কাঁটার বিপরীতে সাতবার কাবা শরিফ প্রদক্ষিণ করেন।
পরে সাফা ও মারওয়া পাহাড়ের মাঝে সাতবার হেঁটে সাঈ সম্পন্ন করা হয়। এটি হযরত হাজেরা (আ.)-এর পানির সন্ধানের স্মৃতিকে স্মরণ করিয়ে দেয়। এ সময় জমজম কূপের ইতিহাসও স্মরণ করা হয়।
এরপর হাজিরা মিনায় যান। কাবা শরিফ থেকে প্রায় ৮ কিলোমিটার দূরের মিনায় তাঁবুতে অবস্থান করে তারা ইবাদত-বন্দেগিতে সময় কাটান।
দ্বিতীয় দিন : আরাফাত ও মুজদালিফা
ফজরের নামাজের পর হাজিরা মিনার উদ্দেশে রওনা হয়ে আরাফাত ময়দানে পৌঁছান। মিনা থেকে আরাফাতের দূরত্ব প্রায় ১৫ কিলোমিটার।
আরাফাতে সূর্যাস্ত পর্যন্ত হাজিরা নামাজ, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া ও তওবায় মগ্ন থাকেন। হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিবেচিত হয় আরাফাতে অবস্থান। এদিনের খুতবা ও দোয়া কেয়ামতের দিনের কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
সূর্যাস্তের পর হাজিরা মুজদালিফায় যান। আরাফাত থেকে মুজদালিফার দূরত্ব প্রায় ৯ কিলোমিটার। সেখানে তারা মাগরিব ও এশার নামাজ আদায় করেন এবং পরদিন শয়তানকে পাথর নিক্ষেপের জন্য নুড়ি সংগ্রহ করেন। খোলা আকাশের নিচে রাতযাপন করেন হাজিরা।
তৃতীয় দিন : শয়তানকে পাথর নিক্ষেপ ও কোরবানি
মুজদালিফা থেকে হাজিরা মিনার জামারাতে গিয়ে শয়তানের উদ্দেশে সাতটি নুড়ি পাথর নিক্ষেপ করেন। এটি শয়তানের প্রলোভন প্রত্যাখ্যানের প্রতীক।
এদিনই মুসলমানরা ঈদুল আজহার নামাজ আদায় করেন এবং পশু কোরবানি দেন। হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর আল্লাহর নির্দেশ পালনের ঘটনাকে স্মরণ করেই এই কোরবানি দেওয়া হয়।
এরপর পুরুষ হাজিরা মাথা মুণ্ডন বা চুল ছোট করেন এবং নারীরা চুলের অল্প অংশ কাটেন। পরে তারা ইহরামের কাপড় পরিবর্তন করেন।
এরপর হাজিরা মক্কায় ফিরে মূল তাওয়াফ সম্পন্ন করেন এবং পুনরায় সাফা-মারওয়ার মাঝে সাঈ করেন।
চতুর্থ ও পঞ্চম দিন : পুনরায় পাথর নিক্ষেপ ও বিদায়ী তাওয়াফ
পরবর্তী দিনগুলোতে হাজিরা আবার মিনায় ফিরে তিনটি জামারাতে পাথর নিক্ষেপ করেন। কেউ অতিরিক্ত একদিন অবস্থান করলে আরও একবার এ আনুষ্ঠানিকতা পালন করেন।
সবশেষে হজের সমাপনী আনুষ্ঠানিকতা হিসেবে হাজিরা কাবা শরিফে বিদায়ী তাওয়াফ সম্পন্ন করেন।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available