নিজস্ব প্রতিবেদক: জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, জাতির এই সংকটকালে সবার ঐক্যবদ্ধ থাকা প্রয়োজন। পরস্পরকে আঘাত না করে বাস্তবভিত্তিক কর্মসূচি নিয়ে দেশ গঠনের লক্ষ্যে জনগণের সামনে যাওয়ার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

২৩ জানুয়ারি শুক্রবার সকালে উত্তরবঙ্গের আটটি জেলা সফরের উদ্দেশে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।


ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘জনগণ যাদের মূল্যবান ভোটে নির্বাচিত করবেন, সবারই উচিত তাদের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকা।’ তিনি নির্বাচনকে ভিন্ন কোনো কৌশলে প্রভাবিত করার যেকোনো অসৎ উদ্দেশ্য থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, রাষ্ট্রের কোনো পর্যায়ের কেউ এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া মোটেও সমীচীন নয়।
দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি তুলে ধরে জামায়াত আমির বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশ কার্যত চোরাবালিতে নিমজ্জিত ছিল। সাংবিধানিক ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো ধ্বংস করা হয়েছে এবং জাতির কাঁধে প্রায় ১১৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণের বোঝা চাপানো হয়েছে। ব্যাংকসহ আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ভবিষ্যতে যারা রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেবেন, এটি তাদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
প্রবাসী বাংলাদেশিদের প্রসঙ্গে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে বিদেশে বসবাসরত প্রবাসীরা তাদের কষ্টার্জিত আয় রেমিট্যান্স হিসেবে দেশে পাঠিয়ে অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন। অথচ তারা দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন। আন্দোলন ও স্মারকলিপির মাধ্যমে তাদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারের সদিচ্ছার জন্য তারা কৃতজ্ঞ।
তিনি জানান, প্রবাসীদের জন্য ব্যালট পেপার বিভিন্ন দেশে পাঠানো শুরু হলেও এখনও কিছু দেশে তা পৌঁছায়নি। সময় সীমিত উল্লেখ করে নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ব্যালট পেপার যেন সময়মতো প্রবাসী ভোটারদের হাতে পৌঁছে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই দেশে ফেরত আসে। অন্যথায় তা জাতির জন্য দুর্ভাগ্যজনক হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
প্রবাসী ভোটারদের উদ্দেশে জামায়াত আমির বলেন, ‘আপনারা যাকে পছন্দ করেন, যে দল বা প্রার্থীকে ভালোবাসেন, নিঃসংকোচে তাকে ভোট দিন। একটি ভোটও জয়-পরাজয়ের ব্যবধান গড়ে দিতে পারে। ভোটাধিকার প্রয়োগ শুধু অধিকার নয়, এটি একটি পবিত্র দায়িত্ব।’
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যারা গত ৫৪ বছরের ব্যর্থ ও পচে যাওয়া রাজনীতি চান না এবং আমূল পরিবর্তন চান, তারা গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দেবেন বলে তিনি আশা করেন।
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, জামায়াতে ইসলামী এককভাবে নয়, দেশপ্রেমিক ও ইসলামী দলগুলোর সমন্বয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। ‘এসো একসাথে গড়ি বাংলাদেশ’- এই স্লোগানে সবাইকে নিয়ে দেশ গড়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকার বাইরে দলের কার্যক্রম শুরুর বিষয়ে তিনি বলেন, জনগণের পালস বুঝে এবং তাদের প্রতি সম্মান দেখিয়ে তারা আশ্বস্ত করতে চান যে, সরকার গঠনের সুযোগ পেলে অলীক কল্পনা বা মিথ্যা প্রতিশ্রুতির ভিত্তিতে নয়, বরং বাস্তবতা ও যৌক্তিকতার আলোকে ইনসাফভিত্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে।
যুব সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘তোমাদের রক্তের বিনিময়েই আজ ২০২৬ সালের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন যেন অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও গ্রহণযোগ্য হয় এ জন্য তোমাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা অপরিহার্য।’
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available