• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১৪ই আষাঢ় ১৪৩৩ দুপুর ০১:৩২:২০ (28-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:

চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসনে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার ব্যাখ্যা

২৮ জুন ২০২৬ সকাল ১১:৪৭:৪৮

চিকিৎসা ব্যয় নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসনে সাবেক ধর্ম উপদেষ্টার ব্যাখ্যা

ডেস্ক রিপোর্ট: সম্প্রতি কয়েকটি অনলাইন সংবাদমাধ্যমে চিকিৎসা ব্যয় সংক্রান্ত প্রকাশিত সংবাদের বিষয়ে নিজের অবস্থান ও ব্যাখ্যা স্পষ্ট করেছেন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক ধর্ম উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন। আজ ২৮ জুন রোববার সকাল ১১টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক আইডিতে দেওয়া এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এ সংক্রান্ত যাবতীয় অভিযোগ ও ‘মিডিয়া ফ্রেমিংয়ের’ তীব্র নিন্দা জানান।

নিজের পোস্টে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে মন্ত্রীদের চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়টি ‘দ্য মিনিস্টার্স, মিনিস্টার্স অব স্টেট অ্যান্ড ডেপুটি মিনিস্টার্স (রিমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ) অ্যাক্ট, ১৯৭৩’ অনুযায়ী পরিচালিত হয়। এই আইন অনুযায়ী, মন্ত্রিসভার সদস্যরা দেশ বা বিদেশে যেকোনো স্থানে চিকিৎসার সম্পূর্ণ খরচ সরকারি কোষাগার থেকে পাওয়ার অধিকারী।

বিদেশে চিকিৎসার ক্ষেত্রে অনুসরণীয় নিয়মাবলী সম্পর্কে তিনি জানান, কোনো মন্ত্রী বিদেশে চিকিৎসা নিতে চাইলে প্রথমে দেশে একটি উপযুক্ত মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। সংশ্লিষ্ট রোগের চিকিৎসা দেশে সম্ভব নয়—এমন প্রত্যয়নের পরেই বিদেশে চিকিৎসার প্রক্রিয়া শুরু হয়। মেডিকেল বোর্ডের সুপারিশের পর বিদেশে যাওয়ার জন্য সরকার প্রধানের চূড়ান্ত অনুমোদন নিতে হয়।

চিকিৎসা শেষে দেশে ফেরার পর খরচের প্রকৃত রসিদ ও ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দিতে হয়। যাচাই-বাছাই শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ তা সরকারিভাবে সমন্বয় করে।

সাবেক এই উপদেষ্টা জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে জটিল হৃদরোগ, অনিয়মিত হৃদস্পন্দন (Atrial Fibrillation), উচ্চ রক্তচাপ ও ডায়াবেটিসের মতো স্বাস্থ্যগত জটিলতায় ভুগছেন। ২০১৫ সালে তাঁর হার্টে স্টেন্ট (রিং) বসানো হয়েছে এবং এ পর্যন্ত পাঁচবার এনজিওগ্রাম করা হয়েছে। দায়িত্ব পালনকালে হৃদরোগের অবস্থার অবনতি হলে জাতীয় হৃদরোগ ইন্সটিটিউটের মেডিকেল বোর্ড তাঁকে বিদেশে ‘ক্যাথেটার এবলেশন’ নামক অপারেশনের পরামর্শ দেয়, যা করার মতো অত্যাধুনিক প্রযুক্তি দেশে নেই।

চিকিৎসা ব্যয়ের বিষয়ে তিনি জানান, বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে থাইল্যান্ডের বামরুনগ্রাড হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন।

প্রাথমিক চিকিৎসা বাবদ প্রায় ১৭ লক্ষ টাকা ব্যয় হয়েছে, যার প্রতিটি রসিদ ও ভাউচার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে জমা দেওয়া হয়েছে।

পরবর্তীতে অপারেশনের জন্য প্রায় ৬৫ লক্ষ টাকা বিল পরিশোধ করা হয়েছে, যেখানে বাংলাদেশ দূতাবাসের অনুরোধে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কিছুটা ছাড় প্রদান করেছিল।

তিনি স্পষ্টভাবে জানান, সরকার শুধু তাঁর হাসপাতালের বিল, অপারেশন ও ঔষধের খরচ বহন করেছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সহযাত্রীর খরচ, হোটেলে থাকা, খাওয়া ও যাতায়াতের যাবতীয় ব্যয় তিনি ব্যক্তিগতভাবে বহন করেছেন।

পোস্টের শেষে ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, “আমি উপদেষ্টা হিসেবে সততা ও নিষ্ঠার সাথে এবং নির্লোভ ও নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালনের সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।” তিনি অভিযোগ করেন যে, কিছু সংবাদমাধ্যম বৈধ ও আইনগত বিষয়গুলোকে এমনভাবে ‘ফ্রেমিং’ করছে, যাতে জনমনে শঙ্কা ও সন্দেহ তৈরি হয়। তিনি এসব সংবাদের তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, সরকারি অর্থের কোনো ধরনের তসরুপ তিনি করেননি এবং প্রতিটি ব্যয়ের প্রমাণ তাঁর কাছে সংরক্ষিত আছে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ











Follow Us