ডেস্ক রিপোর্ট: বাগেরহাটের ঐতিহাসিক খান জাহান আলী (রহ.) মাজারের দীঘিতে থাকা কুমিরটিকে শিগগিরই অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হবে। ২ জুন মঙ্গলবার রাতে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে মাজারের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এক জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক ও খান জাহান আলী মাজার পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি গোলাম মোহাম্মদ বাতেন। এতে মাজারের খাদেম, প্রশাসনের কর্মকর্তা, সাংবাদিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
গত ১ জুন সোমবার রাতে মাজার দীঘিতে কুমিরের আক্রমণে আট বছর বয়সী শিশু ফাতেমার মৃত্যুর ঘটনার পর নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কুমিরটিকে দীঘি থেকে সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সভায় সর্বসম্মত সিদ্ধান্ত হয়।
সভায় বক্তারা বলেন, মাজারের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও জরুরি। তাই কুমিরটির জন্য নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
জেলা প্রশাসক গোলাম মোহাম্মদ বাতেন বলেন, ‘মানুষের নিরাপত্তা সবার আগে। একটি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। ভবিষ্যতে এমন ঘটনা ঠেকাতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তিনি জানান, আপাতত কুমিরটিকে বন বিভাগের হেফাজতে রাখা হবে। পরে মাজার দীঘিতে কুমিরের জন্য উপযুক্ত ও সুরক্ষিত স্থাপনা নির্মাণ এবং বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পর সেটিকে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
জেলা প্রশাসক আরও বলেন, কুমিরটি মাজারের ঐতিহ্য ও পর্যটন আকর্ষণের অংশ হলেও মানুষের জীবন ও নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাচ্ছে। সে কারণেই সাময়িকভাবে কুমিরটিকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সভায় পুলিশ সুপার হাসান মোহাম্মদ নাছের রিকাবদার, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মেজবাহউদ্দিন, সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী এবং বাগেরহাট প্রেসক্লাবের সভাপতি আবু সাইদ শুনুসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: দৈনিক ইত্তেফাক
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available