• ঢাকা
  • |
  • বুধবার ১৩ই কার্তিক ১৪৩৩ রাত ১১:১৭:০৬ (28-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

টোকিওর মতো ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত করার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর

২৮ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৯:৪৯:০৬

টোকিওর মতো ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত করার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক: টোকিওর মতো রাজধানী ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, জাপানের রাস্তায় ধুলোবালি নেই, আইন মানার ক্ষেত্রে কোনো ব্যত্যয় নেই। পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থা, নাগরিক সচেতনতা ও আইনের যথাযথ প্রয়োগের মাধ্যমে কীভাবে একটি দেশ পরিচ্ছন্ন ও সুশৃঙ্খল রাখা সম্ভব জাপানের এই বাস্তবতা বাংলাদেশের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা হতে পারে।

২৮ অক্টোবর বুধবার সন্ধ্যায় টোকিও‘র ‘হোটেল নিউ ওতানি’ বাংলাদেশ কমিউনিটির আয়োজনে প্রবাসী বাংলাদেশিদের এক মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। তিনি অনুষ্ঠানের প্রথমে প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন।

প্রধানমন্ত্রী জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্য সেবা, খেলাধুলোসহ বিভিন্ন মাধ্যমে শিশুদের গড়ে তোলা, ব্যবসা-বাণিজ্য সহজীকরণে নানা উদ্যোগ, বন্ধ শিল্প-কলখানা, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান প্রভৃতি বিষয়ে তার পরিকল্পনাগুলো তুলে ধরেন।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি আজকে আমাদের সঙ্গে আসা একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম টোকিও কেমন দেখলে? সে উত্তরে বললো, রাস্তায় কোনো ময়লা দেখিনি। আর ঢাকায় চারদিকে কত ময়লা।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, এই যে চারদিকে এত ময়লা, এত আবর্জনা, এগুলো যদি জমতে থাকে একসময় সে আবর্জনা থেকে রোগ-জীবাণু, অসুখ-বিশুখ তৈরি হবে, মানুষ অসুস্থ হয়ে যাবে। মানুষকে যদি সুস্থ রাখতে হয় তাহলে পরিবেশটাকে ক্লিন করতে হবে, আবর্জনাকে ঠিকমতো সরাতে হবে। আপনারা নিশ্চয় নিউজে বা সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখেছেন আমরা চেষ্টা করছি ঢাকাসহ সারা দেশটাকে পরিচ্ছন্ন করতে।

তিনি প্রশ্ন করে বলেন, বিএনপি ছাড়া কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে এসব আলোচনা শুনেছেন, পরিকল্পনা দেখেছেন? কোনো রাজনৈতিক দলের মধ্যে কি এই কথাবার্তাগুলো রয়েছে যে কীভাবে পরিবেশটা ভালো করা যায়? নেই।

আরও পড়ুন

বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইউনিয়ন পর্যায়ে কিশোর-কিশোরী ক্লাবের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সমাজকল্যাণমন্ত্রী

সাধারণ মানুষের জন্য নগরীকে পরিচ্ছন্ন করাকে সরকারের অন্যতম সংস্কার হিসেবে অভিহিত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এর চেয়ে বেটার সংস্কার কী হতে পারে? দেশের সন্তানরা, দেশের মানুষরা, মা-বোনরা-নারীরা সুস্থ থাকবে এটাই আমার কাছে বড় সংস্কার মনে হয়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, যে সংস্কার করলে একদম প্রান্তিক মানুষটা উপকার পাবে সেই সংস্কারগুলো যাতে বিএনপি করতে না পারে সেই পরিস্থিতি তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। আজ আপনারা এখানে যারা রয়েছেন, যারা অনলাইনের মাধ্যমে আমার কথা শুনছেন বা দেখছেন, দলমত নির্বিশেষে সবার কাছে আমি এতটুকু বলব, প্রিয় বাংলাদেশি ভাই-বোনরা, আমি যদি এই সংস্কারের কাজগুলো করতে পারি তাহলে আপনি বা আপনার সন্তানরা ভালো থাকবেন, উপকার পাবেন।

তিনি বলেন, তাহলে সমর্থনটা কাকে দেবেন? আমি বলছি না যে, ভোট দেন। সমর্থনটা এজন্য চাইছি, যাতে অন্তত কাজগুলো আমরা করতে পারি। এই সংস্কারের কাজ আমরা করতে চাইছি মানুষের জন্য, প্রান্তিক মানুষের জন্য। আমি যে সংস্কারের কথা বললাম এতে একজন রিকক্সাচালক, সিএনজি চালক, ধনী, গরীব, ডাক্তার, উকিল, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, শিক্ষক যার কথাই বলুন না কেন, প্রত্যেকটা মানুষের উপকার হবে।

আরও পড়ুন

আনসার-ভিডিপির প্রাতিষ্ঠানিক সাফল্যে মিলল বৈদেশিক রিক্রুটিং লাইসেন্স

তিনি আরও বলেন, আমি একবারও বলছি না যে, যে সব ব্যক্তিরা সংস্কার সংস্কার বলতে বলতে পত্রপত্রিকা গরম করে, যে সব বক্তৃতাগুলো আসে, সেগুলো বাস্তবায়ন হলে কারোরই উপকার হবে না, দেশেরও উপকার হবে না। হবে। কিন্তু সেগুলো পরিবর্তিত হলে কতসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবে? হাতে গোনা কিছু মানুষ উপকৃত হবে ।

সরকার প্রধান বলেন, সংস্কার বলতে একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে আমি সেই সংস্কারকেই বুঝি যেই সংস্কারের সুবিধা প্রান্তিক মানুষটা পায়। সংস্কার অনেক ধরনের রয়েছে। এয়ার কন্ডিশন রুমের সংস্কারও রয়েছে, আবার খেটে খাওয়া মানুষের লাইফ একটু বেটার করার জন্য সংস্কারও রয়েছে।

তিনি বলেন, যেহেতু আমরা মানুষের কাছে ভোটের জন্য যাই, সেজন্য আমার কাছে অগ্রাধিকার হচ্ছে, খেটে খাওয়া মানুষের জন্য কাজটা করি, তার লাইফটা একটু বেটার হবে সেই সংস্কারের কাজটা করি। এখন সেই সংস্কারটা করতে হলে আপনাদের সবার সহযোগিতা আমার প্রয়োজন। আপনাদের সবার সহযোগিতা যদি থাকে দেশের প্রত্যেকটি গণতান্ত্রিক মানুষের সহযোগিতা যদি থাকে, ইনশাল্লাহ তাহলে আমরা অবশ্যই আমাদের এই বাংলাদেশকে আমাদের কাঙ্ক্ষিত যে বাংলাদেশ সেই বাংলাদেশে আমরা গড়ে তুলতে পারব।

আরও পড়ুন

ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তবে আমাদের এর জন্য পরিশ্রম করতে হবে, ধৈর্য ধারণ করতে হবে, একসঙ্গে থেকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। আপনাদের কাছে এই সহযোগিতা এবং দোয়া চাই। সবাই (প্রবাসীরা) ইনশাল্লাহ ভালো থাকবেন।

অনুষ্ঠানে দলের সফরসঙ্গী হিসেবে আসা আম জনতা পার্টির সদস্য সচিব মো. তারেক রহমান সম্পর্কে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রপের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই যে এখানে আম তারেক রয়েছে। তাকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নানা সমালোচনা হচ্ছে। অথচ দেশের নানা সমস্যা তা নিয়ে কারও কোনো কথা নেই।

বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থ মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান চলাচল মন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত, জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীসহ সফরসঙ্গীরা উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন

বাংলাদেশের ৭৩৭৯ পণ্য জাপানে করমুক্ত সুবিধা পাবে: প্রধানমন্ত্রী

এটিভি/ এম এইচ আই

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ




এক দিনে বাংলাদেশের দুই জয়
এক দিনে বাংলাদেশের দুই জয়
২৮ অক্টোবর ২০২৬ রাত ০৯:২২:৪৩






ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বসছে এআই ক্যামেরা
২৮ অক্টোবর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৩৪:৫৬