• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ১৮ই কার্তিক ১৪৩৩ সন্ধ্যা ০৬:৫৩:২৬ (02-Nov-2026)
  • - ৩৩° সে:

মজুরি বোর্ডেও কাটেনি ক্ষোভ, পোশাকশিল্পে অস্থিরতার শেষ কোথায়?

২ নভেম্বর ২০২৬ সন্ধ্যা ০৬:১২:০০

মজুরি বোর্ডেও কাটেনি ক্ষোভ, পোশাকশিল্পে অস্থিরতার শেষ কোথায়?
ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক: কেন থামছে না পোশাকশ্রমিকদের আন্দোলন? ১২ হাজার ৫০০ টাকার মজুরি থেকে দাবি ৩০ হাজার! দ্রব্যমূল্যের চাপে মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে রাজপথে শ্রমিকেরা, উৎপাদন বন্ধের শঙ্কায় উদ্বিগ্ন মালিকপক্ষ। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে ও শিল্পে শৃঙ্খলা ফেরাতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে সরকার। মজুরি বোর্ড গঠনের মতো ইতিবাচক পদক্ষেপের পরও কেন থামছে না বিক্ষোভ? সংঘাত, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগে কেন কারখানা বন্ধ করা হচ্ছে? কারা চাইছে দেশের প্রধান রপ্তানি খাতকে অস্থিতিশীল করতে?

প্রথমেই আসা যাক শ্রমিকদের দাবিতে। বর্তমানে পোশাকশ্রমিকদের ন্যূনতম মাসিক মজুরি ১২ হাজার ৫০০ টাকা। শ্রমিকেরা সেটি বাড়িয়ে ৩০ হাজার টাকা করার দাবি জানাচ্ছেন। তাঁদের অভিযোগ, বাড়িভাড়া, খাবার, যাতায়াত ও চিকিৎসার ব্যয় বেড়েছে। ফলে বর্তমান আয়ে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে। তাই মজুরি বাড়ানোর দাবি বাস্তব জীবনযাত্রার ব্যয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত। তবে রাতারাতি ৩০ হাজার টাকা মজুরি কার্যকর করা পোশাকশিল্পের বর্তমান সক্ষমতার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন।

শ্রমিকদের দাবি সমাধানে সরকার দ্রুততম সময়ে পদক্ষেপ নিলেও কিছু মহলের ইন্ধনে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। সরকার আন্তরিকভাবে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চালালেও আন্দোলন ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে। কোথাও সড়ক অবরোধ, কোথাও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটছে। সংঘাতের জেরে কিছু কারখানায় উৎপাদন বন্ধ হওয়ার খবর দিয়েছে বিজিএমইএ।

আরও পড়ুন

বিমান বাহিনীর সহায়তায় ‘মা ইলিশ’ সংরক্ষণে সফলতা

শ্রম ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে চলমান আন্দোলনে রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা এবং বহিরাগতদের উসকানির বিষয়ে স্পষ্ট অভিযোগ উঠেছে। ইতোমধ্যে রাজধানীতে পুলিশের গাড়িতে অগ্নিসংযোগ ও নাশকতার চেষ্টার অভিযোগে নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও আওয়ামী লীগের ১১ জন নেতাকর্মীকে আটক করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। পাশাপাশি গাজীপুরের বিভিন্ন এলাকাসহ কালিয়াকৈর উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতিসহ ৯ জন নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীলতার সঙ্গে মনে করে, সাধারণ সব শ্রমিক নাশকতার সঙ্গে যুক্ত নন; বরং স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী তাদের ব্যবহার করার অপচেষ্টা করছে।

এদিকে চলমান অস্থিরতা, বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, পরিস্থিতি উসকে দিয়ে ষড়যন্ত্রকারী ও ধান্দাবাজরা পোশাকশিল্প ধ্বংসের পাঁয়তারা করছে। শিল্প ও অর্থনীতি বাঁচাতে সরকারকে এ ব্যাপারে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

শ্রমিকদের দাবির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান জানিয়ে সরকার ইতোমধ্যে ছয় সদস্যের মজুরি বোর্ড গঠন করেছে এবং সবাইকে শান্ত থেকে কাজে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে। পাশাপাশি সহিংসতা ও নাশকতার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স বা কঠোর অবস্থানের কথাও স্পষ্ট করেছে প্রশাসন। অন্যদিকে কারখানামালিকদের দাবি, উৎপাদন ব্যয়, জ্বালানি সংকট ও আন্তর্জাতিক বাজারের প্রতিযোগিতার মধ্যে বড় অঙ্কের মজুরি বৃদ্ধি বাস্তবায়ন করা কঠিন। তাদের আশঙ্কা, উৎপাদন বন্ধ থাকলে পোশাক সরবরাহে বিলম্ব হবে, যার ফলে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে রপ্তানি আদেশ ও ভবিষ্যৎ ব্যবসা।

আরও পড়ুন

শ্রমিকদের কাজে ফেরার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, মালিকদের ব্যবসায়িক সক্ষমতা এবং দেশের রপ্তানি স্বার্থ—এই তিনটি বিষয়কেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে একটি টেকসই সমাধানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। এখন দেখার বিষয়, সরকারের আন্তরিক উদ্যোগ ও আলোচনার মাধ্যমে এই সংকটের দ্রুত সমাধান হয়, নাকি ষড়যন্ত্রকারীদের পাতা ফাঁদে দীর্ঘস্থায়ী অস্থিরতায় আরও বিপাকে পড়বে দেশের পোশাকশিল্প।

এটিভি/আরএম

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ