ডেস্ক রিপোর্ট: জুলাই জাদুঘরৃ স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে জাতির সংগ্রামের জন্য ভবিষ্যতের অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে। এই জাদুঘর যতদিন টিকে থাকবে ততদিন এদেশের মানুষের স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম লিপিবদ্ধ থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।
১২ মে মঙ্গলবার জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর পরিদর্শন শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে স্পিকার এসব কথা বলেন।


স্পিকার বলেন, স্বৈরাচারী মাফিয়া শেখ হাসিনার ভুয়া ও পাতানো নির্বাচনের মাধ্যমে দীর্ঘ ১৬ বছরের নিপীড়ন, নৈরাজ্য ও হত্যাকান্ডের বিবরণ জুলাই স্মৃতি জাদুঘরে মুন্সিয়ানার সঙ্গে তুলে ধরা হয়েছে। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে আবু সাঈদ, মুগ্ধ ও ওয়াসিমদের আত্মত্যাগ দেশ ও জাতির জন্য অনুপ্রেরণা যোগাবে। ফ্যাসিস্ট সরকারের সময়ে গুমের শিকার ব্যক্তিবর্গের স্বজনদের সাথে শেখ হাসিনা মিথ্যা সমবেদনা জানিয়ে ইতিহাসে কলংকিত হয়েছে।

স্পিকার বলেন, ১৯৭১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে সাধারণ মানুষের আত্মত্যাগ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় অনন্য। জুলাই গণঅভ্যুত্থানে জনমানুষের আত্মত্যাগ বিশ্বের জন্য একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে। তিনি বলেন, জুলাইযোদ্ধারা জাতির ভবিষ্যতের জন্য তাদের বর্তমানকে উৎসর্গ করেছেন।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থান জাদুঘর ফ্যাসিজম থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করার প্রতিবিম্ব স্বরূপ। এই অভ্যুত্থানে বাংলার দামাল ছেলেরা দেশের গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠায় নিজেদের বিসর্জন দিয়েছে। তাঁদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে এই জাদুঘর অনন্য নিদর্শন হয়ে থাকবে।
এরআগে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার, সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জুলাই জাদুঘরের লং ওয়াক টু ডেমোক্রেসি রোডে ১৯৭১ থেকে ১৯৯১ এর বিভিন্ন ঐতিহাসিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কিত স্থির চিত্র পরিদর্শন করেন। তারা জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আনাসের কবিতাসহ বিভিন্ন ম্যুরাল ও গ্রাফিতি ঘুরে দেখেন। কোটা আন্দোলন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন ১-৩৬ জুলাই, ২০২৪ পর্যন্ত হত্যাকাণ্ডের সারসংক্ষেপ এবং জুলাই গণ অভ্যুত্থান সম্পর্কিত নথি পরিদর্শন করেন তারা।
এছাড়া তারা ২০০৯ সালের পিলখানা ম্যাসাকারের ওপর প্রতীকী স্মারক এবং শাপলা চত্বরে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ওপর সংরক্ষিত স্মৃতি, নিরাপদ সড়ক আন্দোলন এবং ফ্যাসিবাদী আমলে ছাত্রলীগের নৈরাজ্যে শহীদ আবরার ফাহাদের স্মরণে স্মৃতি কর্ণার, আয়নাঘর মিনিয়েচার, মেমোরিজ অব ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স, বাতাসে দুলতে থাকা জুলাই শহীদের মুখচ্ছবি সংবলিত নীরব শ্রদ্ধাঞ্জলি পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে শহীদ জাহিদুজ্জামান তানভীনের নিজ হাতে বানানো সংসদ ভবনের মিনিয়েচার, সৌদি প্রবাসী শহীদ আবু ইসহাকের রক্তে ভেজা জামা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের ব্যবহার্য দ্রব্যসামগ্রী, রক্তে রঞ্জিত জামাকাপড় দেখে তাঁরা আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।
পরিদর্শন শেষে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার জাদুঘরের প্রধান ফটকে প্রেস ব্রিফিং করেন।
এসময় সংস্কৃতি মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী জানিয়েছেন, জুলাই জাদুঘর সর্বসাধারণের জন্য আগামী জুলাইয়ের শেষে অথবা আগস্টের শুরুতে উন্মুক্ত করা হবে।
পরিদর্শনকালে জুলাই জাদুঘরের মহাপরিচালক, কিউরেটর টিমের সদস্যবৃন্দ, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available