• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ২৫শে মাঘ ১৪৩২ রাত ১১:০১:৫৬ (07-Feb-2026)
  • - ৩৩° সে:

ভঙ্গুর সময়ের পুলিশ পুনর্গঠনে মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত গোলাম রসুল

৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ রাত ০৯:২৫:৩৪

ভঙ্গুর সময়ের পুলিশ পুনর্গঠনে মানবিক নেতৃত্বের দৃষ্টান্ত গোলাম রসুল

নিজস্ব প্রতিবেদক: ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়টি ছিল বাংলাদেশ পুলিশের জন্য সবচেয়ে সংকটময় অধ্যায়গুলোর একটি। রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, জনআস্থার ঘাটতি এবং দীর্ঘদিনের কাঠামোগত দুর্বলতায় তখন পুলিশ বাহিনীর মনোবল ও ভাবমূর্তি ছিল ভঙ্গুর। ঠিক সেই প্রেক্ষাপটে পুলিশের অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠন, হারানো মনোবল উদ্ধারে এবং জনমুখী ইমেজ ফিরিয়ে আনতে নীরবে কিন্তু কার্যকর ভূমিকা রাখেন স্পেশাল ব্রাঞ্চের প্রধান মো. গোলাম রসুল।

Ad

সংশ্লিষ্টদের মতে, ৫ আগস্টের পরপরই পুলিশের যে আস্থাহীনতা ও মনস্তাত্ত্বিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে প্রশাসনিক দৃঢ়তা ও মানবিক দৃষ্টিভঙ্গির সমন্বয় জরুরি ছিল। গোলাম রসুল সেই শূন্যস্থান পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তা থেকে শুরু করে গোয়েন্দা কাঠামো -সবখানেই পেশাদারিত্ব, সংযম ও দায়িত্বশীলতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াকে তিনি অগ্রাধিকার দেন।

Ad
Ad

পুলিশ সংস্কারে নীতিনির্ধারণী ভূমিকা
৫ আগস্ট–পরবর্তী পুলিশ সংস্কার কমিশনের কাজেও গোলাম রসুলের অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য। কমিশনে পুলিশের কাঠামো, জবাবদিহি, জনসম্পৃক্ততা এবং গোয়েন্দা কার্যক্রমের নৈতিক সীমা নিয়ে যে আলোচনা হয়েছে, তাতে তার অভিজ্ঞতা ও প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞান গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়।

বিশেষ করে পুলিশকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রেখে পেশাদার ও নাগরিকবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের প্রশ্নে তার মতামত ও প্রস্তাব সংস্কার কমিশনের কাজকে সমৃদ্ধ করেছে। কমিশনের আলোচনায় ‘আইনের প্রয়োগকারী বাহিনী’ হিসেবে পুলিশের পাশাপাশি ‘সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান’ হিসেবে পুলিশের ভূমিকা নতুন করে গুরুত্ব পায়।

মানবিক পুলিশের দর্শন
দীর্ঘদিন ধরেই মানুষের প্রত্যাশা -একটি মানবিক পুলিশ বাহিনী। সহকর্মী ও সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গোলাম রসুল তার পুরো চাকরি জীবনেই সেই ধারণাকে ধারণ করে দায়িত্ব পালন করেছেন। কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মানবিক আচরণ, পরিস্থিতি বিবেচনায় সংযম এবং নাগরিক অধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা -এই তিনটি বিষয় তার পেশাগত দর্শনের অংশ।

৫ আগস্টের পর থেকে আজ পর্যন্ত পুলিশকে আরও মানবিক ও জনবান্ধব করতে তার ভূমিকা অব্যাহত রয়েছে। সংকটকালে তিনি প্রতিশোধপরায়ণতা বা কঠোরতার পথে না গিয়ে দায়িত্বশীলতা ও পেশাদার আচরণকে সামনে রেখেছেন -যা পুলিশের ইমেজ পুনরুদ্ধারে সহায়ক হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

বঞ্চনা পেছনে ফেলে রাষ্ট্রসেবায় নিবেদন
কর্মজীবনে সময়মতো পদোন্নতি না পাওয়া এবং দীর্ঘদিন প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক দায়িত্বে সীমাবদ্ধ থাকার অভিজ্ঞতা থাকা সত্ত্বেও তিনি তা কখনোই দায়িত্ব পালনের অন্তরায় হতে দেননি। বরং ব্যক্তিগত বঞ্চনা ভুলে গিয়ে তিনি রাষ্ট্র ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন।

সহকর্মীদের ভাষ্য, এই মানসিক দৃঢ়তা ও পেশাগত নিষ্ঠাই তাকে সংকটকালে আলাদা করে চিহ্নিত করেছে। পুলিশ বাহিনী পুনর্গঠন, মনোবল ফেরানো এবং একটি মানবিক, পেশাদার ও নিবেদিত পুলিশ বাহিনী গঠনে তার ভূমিকা তাই শুধু প্রশাসনিক নয় -নৈতিক নেতৃত্বের উদাহরণ হিসেবেও বিবেচিত হচ্ছে।

সংকটকালের নেতৃত্ব
বর্তমান বাংলাদেশে পুলিশের মতো সংবেদনশীল বাহিনীতে অভিজ্ঞ, স্থিরচিত্ত ও মানবিক নেতৃত্বের প্রয়োজনীয়তা নতুন করে সামনে এসেছে। সেই বাস্তবতায় গোলাম রসুলকে অনেকেই দেখছেন সংকটকালের একজন নীরব কিন্তু কার্যকর নেতা হিসেবে- যিনি উচ্চকণ্ঠ না হয়ে কাজের মাধ্যমেই আস্থা ফেরানোর চেষ্টা করছেন।

রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, জনআস্থা এবং মানবিক পুলিশ প্রতিষ্ঠার ধারাবাহিকতায় তার এই ভূমিকা ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশের প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারে একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ










এবার কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না : ইসি মাছউদ
এবার কোনো ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে না : ইসি মাছউদ
৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সন্ধ্যা ০৭:৩৭:২১


Follow Us