নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের হাওর ও জলাভূমির অস্তিত্ব রক্ষায় কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। ইতোমধ্যে এ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছে।

১৫ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয়ের পাবলিক রিলেশন্স অফিসার এ তথ্য জানান।


তিনি বলেন, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ থেকে বুধবার এ সংক্রান্ত গেজেট প্রকাশিত হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, জারিকৃত ‘সুরক্ষা আদেশ’ লঙ্ঘন, হাওর-জলাভূমি ও কান্দার অবৈধ দখল, ভরাটকরণ, অননুমোদিত খনন কিংবা পানির প্রবাহ ব্যাহত করে এমন অবকাঠামো নির্মাণের মতো অপরাধের ক্ষেত্রে অনধিক ২ বছর কারাদণ্ড বা অনধিক ১০ লাখ টাকা অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশে এসব অপরাধকে ‘আমলযোগ্য’ ও ‘অ-জামিনযোগ্য’ হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
এ ছাড়া হাওর ও জলাভূমি এলাকা থেকে অনিয়ন্ত্রিত পানি উত্তোলন, মাটি, বালু বা পাথর আহরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পরিযায়ী পাখি শিকার, সংরক্ষিত জলজ প্রাণী ধরা, জলাবন বিনষ্ট করা এবং বিষটোপ বা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরাকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
অধ্যাদেশের মাধ্যমে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ২০১৬ সালের ২৪ জুলাই গঠিত ‘বাংলাদেশ হাওর ও জলাভূমি উন্নয়ন অধিদপ্তর’কে ব্যাপক ক্ষমতা প্রদান করা হয়েছে। এখন থেকে হাওর ও জলাভূমি সংশ্লিষ্ট এলাকায় যেকোনো সরকারি বা বেসরকারি উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণের আগে এই অধিদপ্তরের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
শুধু তাই নয়, সরকার চাইলে বিশেষ কোনো হাওর বা জলাভূমিকে ‘সংরক্ষিত এলাকা’ হিসেবে ঘোষণা করতে পারবে। সংরক্ষিত এলাকার পানির প্রবাহ ও জীববৈচিত্র্যের জন্য ক্ষতিকর কোনো স্থাপনা থাকলে অধিদপ্তর তা অপসারণ বা নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা নিতে পারবে।
সংবিধানের ১৮ক অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নাগরিকদের জন্য প্রাকৃতিক সম্পদের নিরাপত্তা বিধানের অংশ হিসেবে এই অধ্যাদেশ প্রণয়ন করা হয়েছে। এটি অবিলম্বে সারা দেশে কার্যকর হবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available