ডেস্ক রিপোর্ট: প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারের আলোকে দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারই হবে আগামী দিনের সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ে তোলার মৌলিক ভিত্তি।
তিনি বলেন, ‘একটি আধুনিক ও যুগোপযোগী শিক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আমাদের শিক্ষার্থীদের দেশপ্রেমিক, সুনাগরিক, যোগ্য ও বিশ্ব নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’
২ জুলাই বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর একটি হোটেলে আয়োজিত ‘বাংলাদেশে জিপিই সিস্টেম ট্রান্সফরমেশন গ্রান্ট (এসটিজি) এবং মাল্টিপ্লায়ার গ্রান্টের’ আনুষ্ঠানিক ঘোষণার অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
গ্লোবাল পার্টনারশিপ ফর এডুকেশন (জিপিই), ইউনেস্কো, ইউনিসেফ, এডিবি, শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
ড. মাহ্দী আমিন বলেন, ‘আজ অত্যন্ত আনন্দের দিন—আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অংশীদারদের সহযোগিতায় বাংলাদেশের শিক্ষা খাতের উন্নয়নে ৯৮.৮৫ মিলিয়ন ডলারের একটি বিশাল অনুদান নিশ্চিত হয়েছে।
আমাদের আন্তর্জাতিক স্টেকহোল্ডাররা সবাই এখানে এক হয়েছেন। এই অংশীদারিত্বের মাধ্যমে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও বেশি অন্তর্ভুক্তিমূলক করা সম্ভব হবে।’
তিনি বলেন, ‘প্রথম শ্রেণি থেকে শুরু করে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত প্রতিটি শিক্ষার্থীর মেধার বিকাশ ও সুপ্ত প্রতিভাকে জাগিয়ে তুলতে শিক্ষাক্রমের আধুনিকায়নের কাজ চলছে। মুখস্থ বিদ্যার চাপ কমিয়ে শিক্ষাকে আনন্দময় করতে প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য ‘সংস্কৃতি’ ও ‘ক্রীড়া’—এই দুটি বিষয়কে বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এছাড়া বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কারিগরি, বৃত্তিমূলক ও ভাষাগত দক্ষতার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
শিক্ষকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে শিক্ষা উপদেষ্টা বলেন, ‘আমাদের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের কাণ্ডারী শিক্ষার্থীদের যারা তৈরি করেন, সেই শিক্ষকদের দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের উন্নয়ন সবচেয়ে জরুরি। এই শিক্ষকদের যদি আমরা দক্ষ ও যোগ্য করে তুলতে না পারি, তবে আধুনিক শিক্ষা ব্যবস্থার সুফল মিলবে না।
শিক্ষকদের যথাযথ প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পেশাগত সক্ষমতা বাড়াতে এই অনুদান গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষাক্ষেত্রে বৈষম্য দূর করতে আমাদের বড় পরিকল্পনা রয়েছে। আমরা চাই দেশের সব অঞ্চলের প্রতিটি শিক্ষার্থী যেন একই মানের পোশাক (ইউনিফর্ম) এবং একই স্কুল ব্যাগ নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে পারে। প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট ক্লাসরুম এবং মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুমের প্রসারের পাশাপাশি ‘মিড-ডে মিল’ বা স্কুল ফিডিং কর্মসূচির টেকসই বাস্তবায়নের ওপর আমরা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছি।’
উন্নয়ন সহযোগীদের ধন্যবাদ জানিয়ে ড. মাহ্দী আমিন বলেন, সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় মেধা ও মননশীলতায় দীপ্ত একটি নতুন প্রজন্ম গড়ে উঠবে, যারা আগামী দিনে বাংলাদেশকে বিশ্বমঞ্চে নেতৃত্ব দেবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। এছাড়া বিশেষ অতিথি হিসেবে আরও বক্তব্য রাখেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ, ইউনেস্কো, এডিবি এবং ব্রিটিশ হাই কমিশনের ঊর্ধ্বতন প্রতিনিধিগণ উপস্থিত ছিলেন।
সূত্র: বাসস।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available