অনলাইন ডেস্ক: ভিটামিন এ এবং সি-তে ভরপুর এই সবজি যে চোখের দৃষ্টি আর শরীরের জন্য উপকারী, তা আমরা সবাই জানি।
কিন্তু বর্তমানে বিউটি ওয়ার্ল্ডে গাজরের চেয়েও বেশি চর্চা হচ্ছে ‘ক্যারট সিড অয়েল’ বা গাজরের বীজের তেল নিয়ে।


কয়েক বছর ধরে সোশ্যাল মিডিয়া ফিডে এই তেলের বিজ্ঞাপন নিয়মিত চোখে পড়ছে। অনেকেই ভাবছেন, ট্রেন্ডে থাকা এই এসেনশিয়াল অয়েল কি আদৌ সবার ত্বকের জন্য ভালো?

বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক নিয়মে ব্যবহার করলে এটি আপনার ত্বকের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে।
পুষ্টির দিক থেকে বিচার করলে ক্যারট সিড অয়েল এক কথায় অনন্য। এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যারোটেনয়েড, ভিটামিন এ, ভিটামিন ই, পটাশিয়াম এবং ফসফরাস।
এই শক্তিশালী উপাদানগুলো ত্বকের জেল্লা ফেরাতে এবং বিভিন্ন সমস্যা প্রতিরোধে দারুণ কার্যকর। বিশেষ করে এই শুষ্ক শীতের দিনে ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে এটি একটি সুরক্ষা কবচ হিসেবে কাজ করে। এই তেলের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান ত্বকের গভীর থেকে পুষ্টি জোগায়, ফলে শুষ্ক ত্বকের খসখসে ভাব দূর হয়ে ত্বক হয়ে ওঠে কোমল।
কেবল সৌন্দর্য বৃদ্ধিই নয়, ত্বকের ক্ষত নিরাময়েও এই তেলের ভূমিকা অপরিসীম। এতে থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান ত্বকের লালচে ভাব, জ্বালা বা চুলকানি কমিয়ে দেয়। এমনকি ব্রণের কারণে হওয়া প্রদাহ কমাতেও এটি সহায়ক।
আধুনিক জীবনে আমরা সারাদিন ল্যাপটপ বা মোবাইলের সামনে কাটাই। গবেষণায় দেখা গেছে, ক্যারট সিড অয়েল সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি (UV rays) থেকে রক্ষার পাশাপাশি ডিজিটাল ডিভাইসের নীল আলো থেকেও ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।
তবে ব্যবহারের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ সতর্কতা। যেহেতু এটি একটি এসেনশিয়াল অয়েল, তাই সরাসরি মুখে মাখা একদমই উচিত নয়। সরাসরি ব্যবহারে ত্বকে হিতে বিপরীত হতে পারে।
ব্যবহারের সেরা নিয়ম হলো আমন্ড অয়েল বা অলিভ অয়েলের মতো কোনো ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে কয়েক ফোঁটা ক্যারট সিড অয়েল মিশিয়ে নেওয়া।
রাতে ঘুমোতে যাওয়ার আগে এই মিশ্রণটি ফেসিয়াল অয়েল হিসেবে ত্বকে ম্যাসাজ করলে সবথেকে ভালো ফল পাওয়া যায়। যারা প্রাকৃতিক উপায়ে ত্বকের তারুণ্য ধরে রাখতে চান, তাদের জন্য ক্যারট সিড অয়েল হতে পারে এক চমৎকার সমাধান।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available