নিজস্ব প্রতিবেদক: চট্টগ্রাম-৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণার বিরুদ্ধে যমুনা ব্যাংকের করা আপিল আবেদনের ওপর আজ আদেশ দেবেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

২ ফেব্রুয়ারি সোমবার প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ এ বিষয়ে আদেশ দেবেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।


আসলাম চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী মো. মজিবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ১ ফেব্রুয়ারি রোববার ব্যাংকের করা আপিল আবেদনের ওপর শুনানি শেষ হয়েছে।
এর আগে, ঋণখেলাপির অভিযোগে যমুনা ব্যাংকের করা রিট হাইকোর্ট খারিজ করলে ওই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ। গত ২২ জানুয়ারি শুনানির জন্য দিন ধার্য থাকলেও পরবর্তী শুনানির জন্য আদালত ২৫ জানুয়ারি তারিখ নির্ধারণ করেন।
নির্বাচন কমিশনের (ইসি) পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ ফয়জুল্লা ফয়েজ জানান, ঋণখেলাপির অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও ইসি বিএনপি প্রার্থী আসলামের মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করে। এ সিদ্ধান্ত চ্যালেঞ্জ করে ব্যাংকের করা রিট আবেদন হাইকোর্টে খারিজ হয়, যার বিরুদ্ধে আপিল করা হয়েছে।
গত ১৮ জানুয়ারি নির্বাচন কমিশনে আপিল শুনানির শেষ দিনে আসলাম চৌধুরীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। ওইদিন নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ মন্তব্য করেন, ‘মনোনয়নপত্র বৈধ করলাম। ব্যাংকের টাকা (ঋণ) পরিশোধ করে দেবেন। টাকা না দিলে জনরোষ তৈরি হবে, মানুষ হিসেবে কথাটি বললাম।’
সেদিন শুনানিতে বিএনপি প্রার্থীর পক্ষে ছিলেন দলের কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিটির সদস্য ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল। তিনি বলেন, আসলাম চৌধুরী নিজে ঋণগ্রহীতা নন, তিনি জামিনদার।
অন্যদিকে জামায়াত মনোনীত প্রার্থী মো. আনোয়ার ছিদ্দিকের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার শাহরিয়ার কবির। তিনি বলেন, ‘আসলাম চৌধুরী দণ্ডপ্রাপ্ত। এ অবস্থায় নির্বাচন কমিশন তার প্রার্থিতা বহাল রাখতে পারে না। আমরা ইসিতে ন্যায়বিচার পাইনি, তাই উচ্চ আদালতে গিয়েছি।’
মনোনয়নপত্রের সঙ্গে দাখিল করা হলফনামা অনুযায়ী, আসলাম চৌধুরীর স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ প্রায় ৪৫৬ কোটি ৯৫ লাখ ৭ হাজার টাকা। তবে চট্টগ্রামের অন্যান্য প্রার্থীর তুলনায় তার ঋণের পরিমাণ সবচেয়ে বেশি।
বর্তমানে তার মোট ঋণের পরিমাণ প্রায় ১ হাজার ৭০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে পাঁচটি ব্যাংকসহ অন্যান্য প্রতিষ্ঠানে প্রত্যক্ষ ঋণ রয়েছে ৩৫৪ কোটি ৪১ লাখ ৬৩ হাজার ২৬৯ টাকা। পাশাপাশি জামিনদার হিসেবে তার দায় রয়েছে প্রায় ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে পরিচালক হিসেবে ঋণ রয়েছে প্রায় ২৮৫ কোটি টাকা।
সম্পদের তুলনায় তার ঋণের পরিমাণ প্রায় ২৪ দশমিক ২৫ গুণ বেশি। তবে হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, এসব ঋণের বড় অংশই তিনি জামিনদার ও পরিচালক হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
হলফনামা বিশ্লেষণে আরও দেখা গেছে, ঋণের পরিমাণ বেশি হলেও নগদ অর্থের দিক থেকেও আসলাম চৌধুরী শীর্ষে রয়েছেন। বর্তমানে তার হাতে নগদ অর্থ রয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available