আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে একটি অস্ত্র গুদামে রাশিয়ার ড্রোন হামলায় অন্তত ৩৭ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় প্রায় ৪০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ৩০ আগস্ট রোববার বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
জানা যায়, ২৮ আগস্ট শুক্রবার রাতে মাইলা গ্রামের ওই গুদামে রুশ হামলার পর সেখানে থাকা গোলা, মাইন ও ড্রোনে একের পর এক বিস্ফোরণ ঘটে। এতে প্রবীণ ও প্রতিবন্ধীদের একটি পুনর্বাসন কেন্দ্রসহ প্রায় ১৩০টি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
কিয়েভ অঞ্চলের প্রধান তিমুর তকাচেনকো জানান, বিস্ফোরণে চার শিশুসহ ৪২ জন আহত হয়েছেন। বুচা জেলায় উদ্ধার ও তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দূরপাল্লার এফপি-১ ও এফপি-২ ড্রোন তৈরির উপকরণ ও বুস্টার রাখা ওই গুদামকে লক্ষ্য করেই হামলা চালানো হয়েছিল।
আবাসিক এলাকার কাছে অস্ত্র মজুত রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। তাদের অভিযোগ, এ ধরনের স্থাপনা জনবসতির কাছাকাছি থাকায় সাধারণ মানুষের জীবন ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
ঘটনার পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি সংশ্লিষ্টদের চরম অবহেলার অভিযোগ তুলে ফৌজদারি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। কিয়েভের প্রসিকিউটর জেনারেলের কার্যালয়ও আবাসিক এলাকায় বিস্ফোরক ও অস্ত্র রাখার বৈধতা খতিয়ে দেখছে।
এর আগে জুলাইয়ে ভিশনেভ এলাকায় একটি অস্ত্র গুদামে হামলায় নয়জন নিহত এবং ২৮০টির বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। ওই ঘটনার পরও অস্ত্র সংরক্ষণের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল।
এদিকে কিয়েভের বোরিস্পিল ও ওবলনস্কি এলাকায় পৃথক রুশ হামলায় ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর ও দুই বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়েছে। কিয়েভের মেয়র ভিতালি ক্লিচকো শনিবার সকালে আরও পাঁচজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন।
ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, গত কয়েক দিনে রাশিয়ার ২৩৩টি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। একই সময়ে ইউক্রেনীয় বাহিনীও রাশিয়ার বিভিন্ন অর্থনৈতিক ও সরবরাহ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
রাশিয়ার বেলগোরোদ ও রোস্তভ অঞ্চলে ইউক্রেনীয় হামলায় দুজন নিহত ও ২৫ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। দখলকৃত ইউক্রেনীয় ভূখণ্ডের কয়েকটি এলাকাতেও হামলায় চারজন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
সূত্র: বিবিসি
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available