• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ২৪শে কার্তিক ১৪৩৩ দুপুর ১২:৪৭:৪৬ (08-Nov-2026)
  • - ৩৩° সে:

সানায় হামলার জবাবে সৌদির বিভিন্ন স্থাপনায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা

৮ নভেম্বর ২০২৬ সকাল ১১:৫০:৫২

সানায় হামলার জবাবে সৌদির বিভিন্ন স্থাপনায় হুথিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইয়েমেনের সানা প্রদেশে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় ৩৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর সৌদি আরবের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতি বিদ্রোহীরা। এর মধ্যে সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার কথা জানিয়েছে দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা।

৮ নভেম্বর রোববার ভোরে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মুখপাত্র কর্নেল তুর্কি আল-মালকি জানান, সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রটি ধ্বংস করা হয়েছে। খবর রয়টার্সের।

এর আগে শনিবার স্থানীয় সময় ইয়েমেনের সানা প্রদেশের আল-শারিয়া গ্রামে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত এবং ৩৯ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে হুতিদের নিয়ন্ত্রণাধীন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। হামলার পর ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলার সময় উদ্ধারকর্মীদের লক্ষ্য করেও দুই দফা হামলা চালানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে হুতিদের সংবাদমাধ্যম।

আরও পড়ুন

ইয়েমেনে সৌদি জোটের বিমান হামলায় নিহত বেড়ে ৩৩, আহত ৩৯

এ ঘটনার পর সৌদি আরবের বিরুদ্ধে পাল্টা সামরিক অভিযান চালানোর ঘোষণা দেয় হুতি বিদ্রোহীরা। তাদের দাবি, সৌদি আরবের ছয়টি স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। লক্ষ্যবস্তুর মধ্যে ছিল রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, খুরাইস ও দাওয়াদমি এলাকায় সৌদি আরামকোর তেল স্থাপনা এবং কয়েকটি সামরিক অবস্থান। এসব অভিযানে সৌদি সেনাদের হতাহত হওয়ার দাবিও করেছে গোষ্ঠীটি। তবে এসব দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

হুতি মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এক বিবৃতিতে জানান, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন ব্যবহার করে ছয়টি বিশেষ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী। তাঁর দাবি, প্রথম অভিযানটি চালানো হয় রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর, তেলের মজুত ট্যাংক এবং সৌদি আরামকোর একটি ডিস্টিলেশন টাওয়ার লক্ষ্য করে। ওই অভিযান লক্ষ্য অর্জনে সফল হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। দ্বিতীয় অভিযানটি পরিচালনা করা হয় খুরাইসে অবস্থিত আরামকোর স্থাপনায়।

এ ছাড়া দাওয়াদমি এলাকার একটি তেল সরবরাহ পাম্প, নাজরানের একটি ন্যাশনাল গার্ড ক্যাম্প এবং ইয়েমেনের আল-জাওফ ও মারিবে সৌদি সমর্থিত বাহিনীর অবস্থানেও হামলা চালানোর দাবি করেছে হুতিরা।

আরও পড়ুন

ইরানের কেশম দ্বীপে বিস্ফোরণ, হরমুজে দুই জাহাজে অগ্নিকাণ্ড

তবে রিয়াদ বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনাগুলোতে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, রিয়াদ প্রদেশের দিকে ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করা হয়েছে।

এদিকে, হুতিদের বিরুদ্ধে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা বাড়াতে সহযোগিতা করছে সিরিয়া। রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে সিরিয়ার কয়েক ডজন সামরিক সদস্য সৌদি আরবে গেছেন। সেখানে সৌদি ও ইয়েমেনি সেনাদের প্রশিক্ষণ এবং যুদ্ধের প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়াতে পরামর্শ দিচ্ছেন তাঁরা।

তবে ইয়েমেনে সরাসরি সেনা মোতায়েনের কোনো পরিকল্পনা নেই বলে জানিয়েছে দামেস্ক। সিরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সানাকে দেওয়া এক কূটনৈতিক সূত্রের বক্তব্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের সঙ্গে দেশটির সামরিক সহযোগিতার মূল ক্ষেত্র হচ্ছে প্রশিক্ষণ, সামরিক দক্ষতা বিনিময় ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।

আরও পড়ুন

তাহলে কি পারমাণবিক নীতিমালা বদলের প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান?

এটিভি/এসআইআর

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ