আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইউরোপে কড়াকড়ি অভিবাসননীতির মাঝেই ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্পেন। প্রায় পাঁচ লাখ অনথিভুক্ত অভিবাসীকে বৈধতা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে দেশটির সরকার। অর্থনীতি, জনসংখ্যাগত বাস্তবতা এবং শ্রমবাজারের প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় এই পদক্ষেপকে ন্যায়সংগত বলছে সরকার।
বিশ্বজুড়ে যখন অভিবাসনপ্রত্যাশীদের নিজ দেশে ফেরত পাঠাতে কঠোর অবস্থান নিচ্ছে বিভিন্ন দেশ—বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও ইতালি—তখন ভিন্ন পথে হাঁটছে স্পেন। দীর্ঘদিন ধরে বসবাসরত অনথিভুক্ত অভিবাসীদের জন্য একটি বিশেষ পরিকল্পনা অনুমোদন দিয়েছে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সরকার।


সরকারি পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রায় পাঁচ লাখ অভিবাসীকে বৈধ মর্যাদা দেওয়া হবে। এর মাধ্যমে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে শ্রমবাজারে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। প্রাথমিকভাবে এক বছরের জন্য নবায়নযোগ্য বসবাসের অনুমতি দেওয়া হবে, যা পরবর্তীতে স্থায়ী ব্যবস্থায় রূপ নিতে পারে।

এই সুবিধা পেতে আবেদনকারীদের অন্তত পাঁচ মাস স্পেনে বসবাসের প্রমাণ এবং পরিচ্ছন্ন অপরাধমুক্ত রেকর্ড দেখাতে হবে। আগামী ১৬ এপ্রিল থেকে জুনের শেষ পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হবে। অনুমোদন পেলে তারা কাজের সুযোগ, সামাজিক নিরাপত্তা নম্বর এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবার আওতায় আসবেন।
সরকার বলছে, এসব অভিবাসী ইতোমধ্যেই স্পেনের অর্থনীতি ও জনসেবার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছেন। জনসংখ্যার বার্ধক্য মোকাবিলা এবং শ্রমঘাটতি পূরণে তাদের বৈধতা দেওয়া জরুরি। এছাড়া অতীতে নিজ দেশের নাগরিকদের বিদেশে কাজের জন্য যাওয়ার ইতিহাসও এই সিদ্ধান্তের নৈতিক ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী।
তবে দেশটির বিরোধী দল পিপলস পার্টি এই সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছে। তাদের মতে, এমন উদ্যোগ অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করবে এবং নতুন করে অভিবাসীর আগমন বাড়াতে পারে। যদিও ক্যাথলিক চার্চসহ বিভিন্ন মহল এই উদ্যোগকে সমর্থন জানিয়েছে।
ইউরোপজুড়ে কঠোর অভিবাসননীতির প্রেক্ষাপটে স্পেনের এই পদক্ষেপ নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
সূত্র: রয়টার্স, বিবিসি
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available