• ঢাকা
  • |
  • শনিবার ৬ই আষাঢ় ১৪৩৩ দুপুর ০১:১৯:০৩ (20-Jun-2026)
  • - ৩৩° সে:

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচিতে মার্কিন সহায়তা বন্ধের ঘোষণা

২০ জুন ২০২৬ সকাল ১১:১৩:৩৮

দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি কর্মসূচিতে মার্কিন সহায়তা বন্ধের ঘোষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র দক্ষিণ আফ্রিকায় এইচআইভি ও এইডস প্রতিরোধে চলমান কর্মসূচিগুলোতে আর অর্থ সহায়তা দেবে না বলে ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এইচআইভি আক্রান্ত জনগোষ্ঠীর দেশ দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য খাতে নতুন চাপ তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্তমানে ৮০ লাখের বেশি মানুষ এইচআইভি নিয়ে বসবাস করছেন, যা বিশ্বে সর্বোচ্চ। দীর্ঘদিন ধরে দেশটির এইচআইভি প্রতিরোধ ও চিকিৎসা কর্মসূচিতে বড় ধরনের আর্থিক সহায়তা দিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র।

এই সহায়তার বড় অংশ আসত পিইপিএফএআর কর্মসূচির মাধ্যমে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত বছরে প্রায় ৪০ কোটি ডলার সহায়তা দেওয়া হতো এই খাতে, যা দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি কর্মসূচির মোট ব্যয়ের প্রায় ২০ শতাংশ।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ইঙ্গিত অনুযায়ী, দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক উত্তেজনার কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে দেশটির অভ্যন্তরীণ নীতি ও কিছু আন্তর্জাতিক অবস্থান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অসন্তোষ এই সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে জানানো হয়।

তবে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির দাবি, কোনো জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বৈষম্য বা নিপীড়নের অভিযোগ সঠিক নয় এবং বর্ণগত বৈষম্য কমাতে তাদের নীতি প্রয়োজনীয়।

দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, এই সিদ্ধান্ত সম্পর্কে আগে থেকে তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে তারা দীর্ঘমেয়াদে বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নিজস্ব অর্থায়নে স্বাস্থ্য কর্মসূচি পরিচালনার পরিকল্পনা করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয়বার ক্ষমতায় ফেরার পর দুই দেশের সম্পর্ক আরও অবনতির দিকে যায়। তিনি দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু নীতিকে বৈষম্যমূলক বলে অভিযোগ করেন এবং দেশটিতে শ্বেতাঙ্গদের ওপর নির্যাতনের দাবি তোলেন যা আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের অনেকেই ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করেছেন।

এ বিষয়ে সিরিল রামাফোসা সরকারের অবস্থান হলো, বর্ণবাদ-পরবর্তী বৈষম্য কমাতে নেওয়া নীতিগুলো সামাজিক ভারসাম্য রক্ষার জন্য প্রয়োজনীয়।

এই উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কেও টানাপোড়েন দেখা দিয়েছে। এর আগেও হোয়াইট হাউসে দুই দেশের শীর্ষ পর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে মতবিরোধ দেখা যায় এবং দক্ষিণ আফ্রিকা আয়োজিত জি-২০ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র অংশ নেয়নি।

বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্ত শুধু কূটনৈতিক সম্পর্কেই নয়, দক্ষিণ আফ্রিকার এইচআইভি প্রতিরোধ ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থাতেও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ











Follow Us