আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে চলমান নৌ অবরোধ ও মধ্যপ্রাচ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন নৌবাহিনীর বেসামরিক শীর্ষ কর্মকর্তা নৌমন্ত্রী জন ফেলানকে বরখাস্ত করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
২২ এপ্রিল বুধবার পেন্টাগনের পক্ষ থেকে তার পদ থেকে অপসারণের বিষয়টি জানানো হয়।


তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে নৌবাহিনীর আন্ডার-সেক্রেটারি ও ভিয়েতনামি বংশোদ্ভূত সাবেক যুদ্ধাহত কর্মকর্তা হুং কাওকে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে।

পেন্টাগন আনুষ্ঠানিকভাবে বরখাস্তের কারণ প্রকাশ না করলেও মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের সঙ্গে দীর্ঘদিনের মতবিরোধের কারণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে নৌবাহিনীর বাজেট, জাহাজ নির্মাণ ও আধুনিকায়ন নিয়ে তাদের মধ্যে মতপার্থক্য ছিল।
এছাড়া সামরিক অভিজ্ঞতাহীন হওয়ায় ফেলানের নেতৃত্ব নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি অংশের অসন্তোষ ছিল বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভারপ্রাপ্ত নৌমন্ত্রী হুং কাওকে ট্রাম্প প্রশাসনের ঘনিষ্ঠ ও অনুগত হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তিনি দীর্ঘ সময় বিশেষ অপারেশন বাহিনীতে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের চলমান সংস্কার নীতির সমর্থক হিসেবে পরিচিত।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি পেন্টাগনে সাম্প্রতিক সময়ের অন্যতম বড় রদবদল, যা ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক কাঠামোয় নিয়ন্ত্রণ আরও শক্ত করার ইঙ্গিত দেয়। এর আগে বিভিন্ন পর্যায়ে উচ্চপদস্থ সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তাদের পরিবর্তন আনা হয়েছে।
এর আগে গত ২০ এপ্রিল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমমন্ত্রী লরি শ্যাভেজ-ডেরেমার পদত্যাগ করেন। চলতি মাসের শুরুতে অ্যাটর্নি জেনারেল পাম বন্ডি এবং গত ৫ মার্চ অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বিষয়ক মন্ত্রী ক্রিস্টি নোমকেও পদচ্যুত করা হয়।
বিশ্লেষকদের মতে, চলমান আন্তর্জাতিক উত্তেজনার মধ্যে প্রশাসনের এই ধারাবাহিক রদবদল একটি বড় রাজনৈতিক ও সামরিক কৌশলগত পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available