আন্তর্জাতিক ডেস্ক: স্কুলের শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে ফ্রান্সজুড়ে। এতে হাই-স্কুলের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন তাদের অভিভাবক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের সদস্যরা। ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার দেশটির বিভিন্ন শহরে লাখো মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করেন।
প্যারিসে, প্লাস দে লা রিপুব্লিক থেকে শত শত কিশোর-কিশোরী মিছিল বের করে। স্কুলের জন্য আরও বেশি অর্থ ও সুযোগ-সুবিধা বরাদ্দ এবং পুলিশের ‘দমনমূলক আচরণ’ কমানোর দাবি জানান তারা।
এদিকে, লিওনে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষ হয়েছে। প্যারিস-মার্শেইয়ে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছোড়ে। এছাড়াও রেনে শহরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জলকামান ব্যবহার করা হয়। তবে আগের কয়েক দফার বিক্ষোভের তুলনায় মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে বড় ধরনের সহিংসতা তুলনামূলকভাবে কম ছিল।
এর আগে, সংঘটিত সহিংসতার নিন্দা জানিয়েছেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু। তিনি জানান, বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর, এখন পর্যন্ত, ২১৫ জন শিক্ষার্থী ও ৮৫ জন স্কুলকর্মী আহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৭১৫ জন পুলিশ সদস্যও।
সরকারের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার, দেশটির ৮৯১টি হাই-স্কুলের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফ্রান্সের মোট উচ্চবিদ্যালয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশে এর প্রভাব পড়েছে। একই দিনে দেশজুড়ে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছেন বলেও জানিয়েছে সরকার।
তবে শিক্ষার্থীদের সংগঠনগুলোর দাবি, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার। তাদের ভাষ্য, মঙ্গলবার ১ হাজার ৮শ'টি উচ্চবিদ্যালয়ে বিক্ষোভের অংশ হিসেবে শিক্ষার্থীরা প্রবেশপথ অবরোধ করে। আন্দোলনের তৃতীয় দফার এই কর্মসূচিকে বিক্ষোভকারীরা ‘অ্যাক্ট থ্রি’ নামে অভিহিত করেছেন।
মার্শেইয়ে হাজারো বিক্ষোভকারী শহরের বিভিন্ন সড়কে মিছিল করেন। মাঝে মাঝে তারা থেমে স্লোগান দেন, এরপর আবার মিছিল নিয়ে এগিয়ে যান। এ সময় পরিস্থিতি অনুযায়ী পুলিশও তাদের অবস্থান পরিবর্তন করে।
একপর্যায়ে মুখোশ পরা একদল বিক্ষোভকারী রাস্তার খুঁটি ও ময়লার বিন তুলে নিয়ে পুলিশের কাছ থেকে নিজেদের আলাদা করতে ব্যারিকেড তৈরির চেষ্টা করেন। পরে বিক্ষোভ নিয়ন্ত্রণকারী পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ছুড়লে বিক্ষোভকারীরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান।
মার্শেইয়ের এক শিক্ষার্থী আলিসা বলেন, ‘আমাদের বেশিরভাগই সহিংস নই। আমরা রাস্তায় নেমেছি, কারণ আমাদের স্কুলগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। স্কুলগুলোর অবস্থা ভেঙে পড়ছে।’
তার বন্ধু সাশা বলেন, মার্শেইয়ের স্কুলগুলোর ছাদ দিয়ে পানি পড়ে এবং সামগ্রিক পরিবেশও ভালো নয়। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। তিনি বলেন, ‘ভালো পদক্ষেপ নেওয়া না পর্যন্ত আমরা এভাবেই চালিয়ে যাব।’
নির্বাচনের আগে ‘বিশৃঙ্খলা তৈরির’ অভিযোগ
এদিকে, পার্লামেন্টে বক্তব্য দেওয়ার সময় প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়েন লেকর্নু কট্টর-বামপন্থি রাজনৈতিক দল ফ্রান্স আনবোডকে (এলএফআই) আগামী সাত মাসের মধ্যে অনুষ্ঠেয় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ‘বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার’ চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরন তার দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদের শেষ পর্যায়ে রয়েছেন। জনমত জরিপে, বর্তমানে, কট্টর-ডানপন্থি ন্যাশনাল র্যালি দলের নেতা মেরিন ল্য পেনের পর ২য় অবস্থানে রয়েছেন এলএফআই নেতা জ্যঁ-লুক মেলঁশোঁ।
পরিস্থিতি পর্যালোচনা করতে, ৬ অক্টোবর মঙ্গলবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যায়, এলিসি প্রাসাদে মন্ত্রীদের সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা ছিল প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাকরনের।
এদিকে, শিক্ষা মন্ত্রী এদুয়ার জেফ্রে বলেন, শুরু থেকেই তিনি স্কুল অবরোধের পরিবর্তে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধানের আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, ‘চরম সহিংসতাপ্রবণ কিছু গোষ্ঠী’ উচ্চবিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে ঢুকে পড়েছে।
ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের এই আন্দোলন অব্যাহত থাকায় দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভ ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগও বাড়ছে।
সূত্র: রয়টার্স
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available