ডেস্ক রিপোর্ট: নেপাল ও তিব্বত সীমান্ত–সংলগ্ন হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯৫ জনে দাঁড়িয়েছে।
নেপালের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এ ঘটনায় ৯৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
এ ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে। নিহত ও নিখোঁজের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, বুধবারের প্রবল বন্যায় এই বন্যায় রাস্তাঘাট, সেতু ও বেশ কয়েকটি বিদ্যুৎ প্রকল্প পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে।
এদিকে, নেপাল ট্যুরিজম বোর্ডের সর্বশেষ হালনাগাদ তথ্যে বলা হয়েছে, ভয়াবহ পাহাড়ি ঢল ও ভূমিধসের ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ৪০৩ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের মধ্যে ৬১ জন নেপালের নাগরিক এবং ৩৪১ জন বিদেশি নাগরিক।
ট্যুরিজম বোর্ড জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২০০ জন নারী ও ২০৩ জন পুরুষ। নিখোঁজ বিদেশি নাগরিকেরা ২৬টি দেশের নাগরিক বলে ধারণা করা হচ্ছে।
নিখোঁজদের মধ্যে ভারতের ১৩৩ জন, যুক্তরাষ্ট্রের ৪৭ জন এবং যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন নাগরিক রয়েছেন।
নেপাল ট্যুরিজম বোর্ড ট্যুর অপারেটরদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, নিখোঁজদের অধিকাংশই ভারত ও নেপালের সীমান্তবর্তী মানসসরোবরের উদ্দেশে যাচ্ছিলেন।
কেন এই ভয়াবহ বিপর্যয়?
ভয়াবহ ভূমিধসের সূত্রপাত ভূমিকম্প থেকে হয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী শিশির খানাল। তার ভাষ্য, স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটের দিকে ওই এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হানে। এরপর ভূমিকম্পের প্রভাবে তুষারধসের সৃষ্টি হয় এবং সেখান থেকেই আকস্মিক বন্যার সূত্রপাত ঘটে।
নেপালের পার্লামেন্টে দেওয়া বক্তব্যে প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে এ কথা জানান দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
তবে তিনি উল্লেখ করেন, ঘটনাপ্রবাহের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দলগুলো এখনও তথ্য যাচাই করছে। ফলে দুর্যোগের সুনির্দিষ্ট কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির চিত্র আরও যাচাইয়ের পর স্পষ্ট হবে।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভূমিকম্পের পর তুষারধস এবং আকস্মিক বন্যার কারণে নেপালের বিস্তীর্ণ এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রতিবেশী চীনেও ‘বিপুল ক্ষয়ক্ষতি’ হয়েছে বলে জানান তিনি।
নেপাল সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় চীনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করছে বলেও জানান খানাল। সীমান্তবর্তী এলাকায় দুর্যোগের প্রভাব পড়ায় দুই দেশের মধ্যে যোগাযোগ ও সমন্বয়কে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available