আন্তর্জাতিক ডেস্ক: কাতারের রাজধানী দোহায় কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে প্রথম দফার পরোক্ষ কারিগরি আলোচনা সম্পন্ন হয়েছে। আলোচনায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন সংক্রান্ত অভিযোগ এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উভয় পক্ষ অবস্থান তুলে ধরে।
বৈঠক শেষে এক যৌথ সমঝোতায় চুক্তি লঙ্ঘনের ঘটনা তদারকির জন্য একটি দ্রুত যোগাযোগ মাধ্যম চালুর বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছায় দুই পক্ষ।
আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকা এবং মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো নিয়ে কঠোর অবস্থান নেয় ইরান। পাশাপাশি মার্কিন কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক বক্তব্যকে হুমকিমূলক ও হস্তক্ষেপমূলক বলে তীব্র সমালোচনা করে তেহরান।
ইরানি প্রতিনিধি দল অভিযোগ করে, লেবাননে যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করা হয়েছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধিতে মার্কিন সামরিক তৎপরতা ভূমিকা রাখছে বলেও দাবি করে তারা।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার পুনর্ব্যক্ত করেন, দেশটির পারমাণবিক স্থাপনায় হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ) কে পরিদর্শনের অনুমতি দেওয়া হবে না।
এদিকে ইরানের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম ঘারিবাবাদী সতর্ক করে বলেন, সমঝোতার কোনো শর্ত লঙ্ঘিত হলে পুরো চুক্তি ভেস্তে যেতে পারে। তিনি জানান, সম্ভাব্য লঙ্ঘন দ্রুত নথিবদ্ধ ও তদারকির জন্য শিগগিরই একটি বিশেষ যোগাযোগ ব্যবস্থা চালু করা হবে।
অন্যদিকে বৈঠককে ইতিবাচক হিসেবে বর্ণনা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি দাবি করেন, ইরানের পরমাণু নিরস্ত্রীকরণ প্রক্রিয়া অগ্রগতি হচ্ছে এবং দোহা আলোচনা ফলপ্রসূ হয়েছে।
তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সতর্ক করে বলেন, আলোচনা এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। তিনি জানান, মূল লক্ষ্য হরমুজ প্রণালীতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা। একই সঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি দেন, ইরান যদি পারমাণবিক কর্মসূচি পুনরায় সক্রিয় করে বা আন্তর্জাতিক পরিদর্শনে বাধা দেয়, তবে ওয়াশিংটনের হাতে সব ধরনের বিকল্প ব্যবস্থা খোলা থাকবে।
(এই ওয়েবসাইটের যেকোনো কিছু অনুমতি ছাড়া ব্যবহার করা বেআইনি)
© 2026, এশিয়ান অনলাইন টিভি  |  সর্বস্বত্ব সংরক্ষিতDeveloped by Future IT
Recent comments
Latest Comments section by users
No comment available