• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ১০ই কার্তিক ১৪৩৩ দুপুর ০১:৩৪:০৭ (25-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

ফ্রান্সে কঠোর পুলিশি পাহাড়ায় লাখো মানুষের বিক্ষোভ, গ্রেফতার প্রায় এক হাজার

২৫ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ০১:০৩:১৯

ফ্রান্সে কঠোর পুলিশি পাহাড়ায় লাখো মানুষের বিক্ষোভ, গ্রেফতার প্রায় এক হাজার
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিদ্যালয়ের শিক্ষার অবনতিশীল পরিবেশ, জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং সরকারি নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ফ্রান্সে দেশজুড়ে দ্বিতীয় দফায় ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্থানীয় সময় ২৪ অক্টোবর শনিবার অনুষ্ঠিত এই কর্মসূচি ঘিরে যেকোনো ধরনের সহিংসতা এড়াতে ৭০ হাজারের বেশি পুলিশ ও জেন্দার্ম মোতায়েন করা হয়েছিল। দিনভর কড়া নিরাপত্তা ও সংঘর্ষের মধ্য দিয়ে দেশজুড়ে প্রায় এক হাজার মানুষকে গ্রেপ্তারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ। আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, শনিবারের এই বিক্ষোভে সারা দেশে মোট ৪ লাখ ১০ হাজার মানুষ অংশ নেন। এর মধ্যে শুধু রাজধানী প্যারিসেই জমায়েত হয়েছিল ১ লাখ ১০ হাজার মানুষ। তবে দেশের অন্যতম শীর্ষ শ্রমিক সংগঠন সিজিটি দাবি করেছে, মাঠের প্রকৃত উপস্থিতি সরকারি হিসাবের প্রায় দ্বিগুণ।

প্যারিসে ইতালির ফটক থেকে শুরু হওয়া মূল মিছিলটি শহরের দক্ষিণ-পূর্ব প্রান্তের ভঁসেন ফটক পর্যন্ত গড়ায়। প্রথম দিকে বিক্ষোভটি পুরোপুরি শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর থাকলেও সন্ধ্যার দিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান ও কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে। এ সময় কালো পোশাকধারী কিছু বিক্ষোভকারী পুলিশকে লক্ষ্য করে বিভিন্ন বস্তু ছুড়লে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।

আরও পড়ুন

ইরানে আজই হামলা চালাতে পারে যুক্তরাষ্ট্র, ইঙ্গিত ট্রাম্পের

কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রায় ৫০০ দাঙ্গাকারী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। তবে গত সপ্তাহের সহিংসতার তুলনায় এবারের সার্বিক পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে ছিল।

প্যারিসে বিক্ষোভের নির্ধারিত রুট পরিবর্তন করে শহরের কেন্দ্রের পরিবর্তে প্রান্তিক এলাকায় নেওয়ার সরকারি সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন আন্দোলনকারীরা। তাঁদের অভিযোগ, সরকার আন্দোলনের তীব্রতা কমাতে এবং জনসমক্ষ থেকে বিক্ষোভকে দূরে সরিয়ে রাখতে চাইছে। এ ছাড়া শ্রমিক সংগঠন ছাড়া অন্য গোষ্ঠীগুলোর আয়োজিত বিক্ষোভও নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

এবারের বিক্ষোভে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, পরিবেশকর্মী, নার্স ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। তাদের ফেস্টুন ও স্লোগানে সামাজিক বৈষম্য, ধনকুবেরদের প্রভাব এবং প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁর পদত্যাগের দাবি জোরালোভাবে উঠে আসে। একদল বিক্ষোভকারীকে স্লোগান দিতে শোনা যায়, ‘কোটি কোটি কোটিপতি, আমরা বিপ্লবের প্রস্তুতি নিচ্ছি।’

আরও পড়ুন

সৌদির তিন বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় ভয়াবহ হামলার দাবি হুথিদের

নিরাপত্তার কড়াকড়ির অংশ হিসেবে প্যারিসের অন্তত ২৪টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ রাখা হয়। পাশাপাশি লুভর ও ওর্সে জাদুঘরের মতো প্রধান সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোও বন্ধ ছিল। আর্ট বাসেল প্যারিস তাদের সপ্তাহান্তের সব কর্মসূচি বাতিল করে। শহরের কেন্দ্রের বহু দোকানপাট বন্ধ রাখা হয় এবং ব্যবসায়ীরা তাদের জানালায় সুরক্ষাপ্যানেল বসিয়ে রাখেন।

এর আগে গত ১৭ অক্টোবরের বিক্ষোভে ব্যাপক ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছিল। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, ওই সময় দুই হাজারের বেশি মানুষকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছিল এবং হাজারো ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। নতুন করে সেই সহিংসতার পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই এবার পূর্বের তুলনায় ২০ শতাংশ বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এমনকি সচরাচর জনতা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা না হলেও পুলিশের বিশেষ ইউনিট ‘রেইড’-কেও অভিযানে যুক্ত করা হয়।

শনিবার দিনের শুরুতে প্যারিসে তিন হাজারের বেশি ব্যক্তিকে তল্লাশি চালিয়ে ৬৫ জনকে আটক করার কথা জানায় পুলিশ। পরবর্তীতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানান, সারা দেশে মোট গ্রেপ্তারের সংখ্যা প্রায় এক হাজারে গিয়ে ঠেকেছে। পুলিশকে অত্যন্ত ‘উচ্চমাত্রার সহিংসতার’ মুখে পড়তে হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

আরও পড়ুন

ফিলিস্তিনের জন্য ‘বড় চমক’ অপেক্ষা করছে: নেতানিয়াহু

এদিকে মঁপেলিয়ে, রুয়াঁ ও নিসের মতো বেশ কয়েকটি শহরে বিক্ষোভ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। মার্সেইয়ে কঠোর শর্তের সাপেক্ষে শ্রমিক সংগঠনের মিছিলে অনুমতি দেওয়া হলেও সেখানেও বিক্ষোভকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। লিয়নে শহরের কেন্দ্রে জমায়েত নিষিদ্ধ থাকায় প্রায় ১৫০ জনের একটি দল জড়ো হলে পুলিশ কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়।

এর আগে গত শুক্রবার আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে প্রথমবারের মতো বৈঠক করেন প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ। বৈঠকে তিনি আরও শিক্ষক নিয়োগ এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির আবেদন প্রক্রিয়া ‘পারকুরসুপ’ ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে শিক্ষার্থীরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, দৃশ্যমান ও বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত তাদের এই আন্দোলন চলবে।

উল্লেখ্য, গত সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি বিদ্যালয়ের জরাজীর্ণ অবকাঠামো, শিক্ষক সংকট এবং উচ্চশিক্ষায় ভর্তির ত্রুটিপূর্ণ ব্যবস্থাকে অন্যায্য আখ্যা দিয়ে শিক্ষার্থীরা রাজপথে নামে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে তা জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি, সামাজিক বৈষম্য ও মাক্রোঁ সরকারের বিরুদ্ধে বৃহত্তর অসন্তোষের রূপ নেয়। এর আগে গত শনিবার শিক্ষার্থী এবং ২০১৮ সালের ‘ইয়েলো ভেস্ট’ আন্দোলনের সমর্থকদের আহ্বানে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন। আন্দোলনকারীরা আগামী শনিবারও নতুন কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়ে রেখেছেন।

আরও পড়ুন

দুই যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষে ফিলিপাইনের ৪ পাইলট নিহত

এদিকে আগামী ছয় মাসের মধ্যে ফ্রান্সে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ফরাসি সংবিধান অনুযায়ী প্রেসিডেন্ট মাক্রোঁ টানা তৃতীয় মেয়াদে আর প্রার্থী হতে পারবেন না এবং ২০২৭ সালে তাঁর ক্ষমতা ছাড়ার কথা রয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপগুলোতে কট্টর ডানপন্থী ‘ন্যাশনাল র্যালি’ দলের প্রধান মেরিন লে পেনকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের দৌড়ে বেশ এগিয়ে থাকতে দেখা যাচ্ছে।

শনিবার ওর্লেয়াঁ শহরে লে পেনের দলের সম্মেলন চলাকালে বামপন্থী বিক্ষোভকারীরা তাঁর বিরুদ্ধে ফ্যাসিবাদবিরোধী স্লোগান দেন। একই দিনে ‘ন্যাশনাল র্যালি’র পক্ষ থেকে জানানো হয়, জর্দান বারদেল্লা প্রায় ৯৯ শতাংশ ভোট পেয়ে দলের সভাপতি হিসেবে পুনর্নির্বাচিত হয়েছেন। আজ রোববার লে পেন ও বারদেল্লার প্রায় ১০ হাজার সমর্থকের সামনে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে।

এটিভি/ আর এম

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ




রংপুরে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে দুজন নিহত
রংপুরে চুরির অভিযোগে গণপিটুনিতে দুজন নিহত
২৫ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ০১:০০:১৯





দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন
দেশের বাজারে স্বর্ণের দামে ফের বড় পতন
২৫ অক্টোবর ২০২৬ সকাল ১০:৪৯:১১