• ঢাকা
  • |
  • রবিবার ২৬শে আশ্বিন ১৪৩৩ দুপুর ১২:৫৭:০৭ (11-Oct-2026)
  • - ৩৩° সে:

নেপালে আবারও আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেছে ঘরবাড়ি-সেতু, নিখোঁজ ৪

১১ অক্টোবর ২০২৬ দুপুর ১২:১১:১৬

নেপালে আবারও আকস্মিক বন্যা, ভেসে গেছে ঘরবাড়ি-সেতু, নিখোঁজ ৪
ছবি: সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: নেপালের গোর্খা জেলায় বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হড়পা বানে বেশ কয়েকটি ঘরবাড়ি ও দুটি ঝুলন্ত সেতু ভেসে গেছে। আজ ১১ অক্টোবর রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন নিখোঁজ রয়েছেন। নদীর পানি বাড়তে থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

নেপালের সংবাদমাধ্যম দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গোর্খা জেলার উত্তরে বুড়ি গণ্ডকী নদীর পানি বাড়তে শুরু করলে ভোরের দিকে হড়পা বান দেখা দেয়। এতে চুমুব্রি গ্রামীণ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সল্লেরি, পাইয়ুকা ও জগৎ এলাকার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ভেসে যায় দুটি ঝুলন্ত সেতু। এতে ওই এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হয়েছে।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি রামকুমার গুরুং জানান, ভোরে আকস্মিক বন্যা শুরু হওয়ায় বাসিন্দারা ঘর থেকে জিনিসপত্র বের করারও সুযোগ পাননি। নদীর পানির প্রবল গর্জন শুনে তাঁরা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ স্থানে চলে যান।

গোর্খার প্রধান জেলা কর্মকর্তা ধর্মেন্দ্রকুমার মিশ্র জানান, প্রাথমিকভাবে সিউরিবাস এলাকায় ভূমিধসের খবর পাওয়া গেছে। তবে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে হঠাৎ পানি বেড়ে যাওয়ার প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নেপালের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং জানিয়েছেন, নদীর পানি বাড়তে থাকায় উদ্ধার অভিযান, ত্রাণ বিতরণ এবং স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হেলিকপ্টার পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য অনুযায়ী, রোববার ভোর ৪টার দিকে নদী থেকে বিকট গর্জনের শব্দ শোনা যায়। এতে আতঙ্কিত হয়ে নদীতীরবর্তী এলাকার বাসিন্দারা ঘরবাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে পড়েন। এলাকার হোটেলগুলোতে থাকা পর্যটকেরাও নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন।

স্থানীয় বাসিন্দা শেরাপ গুরুং জানান, অন্ধকারে তাঁরা শুধু পানির প্রচণ্ড শব্দ শুনতে পেয়েছিলেন। পরিস্থিতি বুঝতে না পারলেও ঘরে থাকা নিরাপদ মনে না হওয়ায় সবাই দ্রুত সরে যান। পরে চারজনকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানা যায়। নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধানে গ্রামবাসীরা তল্লাশি চালাচ্ছেন।

স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, রোববার সকালেও নদীর পানি ওঠানামা করছিল। কখনো কখনো পানির উচ্চতা বিপৎসীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছিল। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসন মাইকিং করে বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। সহায়তার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করতেও বলা হয়েছে।

হড়পা বানের সম্ভাব্য কারণ হিসেবে বিশেষজ্ঞদের একাংশের ধারণা, শনিবার রাতে ভূমিধসের কারণে বুড়ি গণ্ডকী নদীতে সাময়িকভাবে একটি জলাধার তৈরি হয়েছিল। পরে পানির চাপে সেটি ভেঙে যাওয়ায় আকস্মিক ঢল নেমে আসতে পারে। তবে এ বিষয়ে কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত নিশ্চিতকরণ পাওয়া যায়নি।

পরিস্থিতি বিবেচনায় গোর্খা, ধাদিং ও চিতোয়ান জেলার নদীতীরবর্তী এলাকায় সতর্কতা জারি করা হয়েছে।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ