• ঢাকা
  • |
  • সোমবার ৯ই ভাদ্র ১৪৩৩ সকাল ১১:৩৪:২০ (24-Aug-2026)
  • - ৩৩° সে:

ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ

২৪ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১০:৩২:২৪

ছাগল খুঁজতে গিয়ে সোনার সন্ধান, খবর পেয়ে জড়ো হন হাজার হাজার মানুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: হারিয়ে যাওয়া ছাগল খুঁজতে গিয়ে নদীর তীরে সোনা অনুসন্ধানরত কয়েকজন নারীর দেখা পান কেনিয়ার এক ছাগলপালক। পরে তাদের সঙ্গে সোনা খুঁজতে গিয়ে তিন গ্রাম সোনা পান তিনি। সেই খবর ছড়িয়ে পড়তেই পশ্চিম কেনিয়ার প্রত্যন্ত চেপোরোর গ্রামে শুরু হয় সোনার সন্ধানে মানুষের ঢল। একপর্যায়ে সেখানে জড়ো হন প্রায় ১০ হাজার মানুষ।

বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩৩ বছর বয়সী মানাসে লোমাচার পেশায় ছাগলপালক। হারিয়ে যাওয়া একটি ছাগল খুঁজতে গিয়ে তিনি নদীর তীরে নারীদের সোনা ধুয়ে খুঁজতে দেখেন। কৌতূহলবশত তাদের সঙ্গে যোগ দেন তিনি। পরে পাওয়া তিন গ্রাম সোনা ৩৬ হাজার কেনিয়ান শিলিংয়ে বিক্রি করেন, যার মূল্য প্রায় ২৮০ মার্কিন ডলার।

লোমাচারের পাওয়া সোনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে পশ্চিম কেনিয়ার ওয়েস্ট পোকট কাউন্টির চেপোরোরে মানুষের ভিড় বাড়তে থাকে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, একপর্যায়ে সেখানে প্রায় ১০ হাজার মানুষ জড়ো হন। কয়েক সপ্তাহ আগেও যেখানে ছিল ঝোপঝাড় ও পশুচারণের জমি, সেখানে এখন অসংখ্য গর্ত, মাটির স্তূপ ও অস্থায়ী খনিশিবির দেখা যাচ্ছে।

তবে লোমাচারের সন্ধানই যে এই ‘গোল্ড রাশ’-এর একমাত্র কারণ, তা নিশ্চিত নয়। ওয়েস্ট পোকটের ডেপুটি কমিশনার স্যামুয়েল কিয়ারির বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, আগস্টের শুরুতে ওই এলাকায় আরও কয়েকটি সোনার সন্ধানের খবর ছড়িয়ে পড়ে। পরে মুখে মুখে সেই খবর আরও বড় আকার ধারণ করলে খনির অভিজ্ঞতা না থাকা অনেক মানুষও সোনার আশায় সেখানে ছুটে আসেন।

বর্তমানে সেখানে মানুষের সংখ্যা কমে প্রায় ২ হাজার ৫০০-তে নেমেছে। তবুও সোনার সন্ধান অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় কর্মকর্তাদের হিসাবে, পাওয়া সোনার পরিমাণ খুব বেশি নয়। ব্যক্তিগতভাবে পাওয়া সোনার মূল্য কয়েকশ কেনিয়ান শিলিং থেকে সর্বোচ্চ প্রায় ৭৮ হাজার শিলিং বা ৬০০ ডলার পর্যন্ত হয়েছে। তবে ওই এলাকায় মাটির নিচে ঠিক কত পরিমাণ সোনা রয়েছে এবং বাণিজ্যিকভাবে খনন করা লাভজনক হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।

ওয়েস্ট পোকটের সঙ্গে উগান্ডার সীমান্ত রয়েছে। দুই দেশের সীমান্তবর্তী মানুষের দীর্ঘদিনের সামাজিক ও পারিবারিক যোগাযোগ থাকায় সোনার সন্ধানের খবর দ্রুত উগান্ডাতেও ছড়িয়ে পড়ে। উগান্ডার বুসিয়া থেকে আসা কারিগরি খনিশ্রমিক মুগিশা গডফ্রে বন্ধুর কাছ থেকে খবর পেয়ে চেপোরোরে যান। সেখানে যেতে তার প্রায় ২৭ ডলার খরচ হলেও এখনো কোনো সোনা পাননি।

সোনার সন্ধানে মানুষের ভিড়কে কেন্দ্র করে চেপোরোরে নতুন ব্যবসাও গড়ে উঠেছে। খাবার, পানি ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রির পাশাপাশি বিভিন্ন সেবা দিতে ব্যবসায়ীরা সেখানে ভিড় করছেন। কেনিয়ার সরকারি সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, হঠাৎ বিপুলসংখ্যক মানুষের আগমনে স্থানীয় পানি, পয়োনিষ্কাশন, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ব্যবস্থার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।

বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নিরাপত্তা টহল বাড়ানো হয়েছে এবং স্বাস্থ্য ও জননিরাপত্তা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরও মাঠে রাখা হয়েছে। খনির গর্তে দুর্ঘটনা, শিশুশ্রম এবং বিশুদ্ধ পানি ও স্যানিটেশনের সংকট নিয়েও সতর্ক করেছে স্থানীয় প্রশাসন।

এদিকে, স্থানীয়দের একাংশ মনে করছেন, সঠিকভাবে অনুসন্ধান ও খনন করা গেলে চেপোরোরে আরও খনিজ সম্পদের সন্ধান পাওয়া যেতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের ভূতাত্ত্বিক জরিপ ছাড়া মাটির নিচে বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য কতটা সোনা রয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া সম্ভব নয়।

Recent comments

Latest Comments section by users

No comment available

সর্বশেষ সংবাদ

আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৩০, আহত ২২
আবর্জনার স্তূপ ধসে নিহত ৩০, আহত ২২
২৪ আগস্ট ২০২৬ সকাল ১১:২৪:৩১